সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. আব্দুল মালেক একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। তাঁর শ্যালক রুবেল বেশ পূর্বে অধ্যয়ন শেষ করলেও কোনো চাকরি এখনও জোগাড় করতে পারেনি। মি. আব্দুল মালেক বিষয়টি উপলব্ধি করেন এবং উপযুক্ত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিজের সংস্থায় রুবেলকে একটি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
- ক)(1)
লেভিরেট বিবাহ কী?
- খ)(2)
লোকরীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রুবেলের দুলাভাই কোন ধরনের জ্ঞাতি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জ্ঞাতিটি ছাড়াও পাঠ্যবইয়ে জ্ঞাতির আরও কিছু বিভাজন লক্ষণীয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো নারী তার মৃত স্বামীর ভাইকে (দেবর বা ভাসুর) বিবাহ করলে তাকে লেভিরেট (দেবর বিবাহ) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লোকরীতি (Folkways) হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু প্রথাগত ও স্বাভাবিক আচরণবিধি বা অভ্যাস, যা সমাজে প্রচলিত এবং সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই তা মেনে চলে। উইলিয়াম গ্রাহাম সামনার লোকরীতির ধারণা দেন। সমাজের শিষ্টাচার, বড়দের সম্মান করা, সালাম বা শুভেচ্ছা বিনিময় ইত্যাদি লোকরীতির উদাহরণ। লোকরীতি ভঙ্গ করলে আইনগত শাস্তি না হলেও সমাজে মৃদু সমালোচনা বা তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রুবেলের দুলাভাই হলেন বৈবাহিক সূত্রীয় জ্ঞাতি (Affinal Kin)।
বিবাহের মাধ্যমে যে জ্ঞাতিসম্পর্ক গড়ে ওঠে তাকে বৈবাহিক সূত্রীয় জ্ঞাতি বলে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ পরিবারের সাথে যে আত্মীয়তার সূত্রপাত হয়, তা এই শ্রেণির অন্তর্গত। যেমন: শ্যালক, দুলাভাই, শ্বশুর, শাশুড়ি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আব্দুল মালেক হলেন রুবেলের দুলাভাই, অর্থাৎ আব্দুল মালেকের সাথে রুবেলের বোনের বিবাহ হয়েছে। বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে শ্যালক-দুলাভাই সম্পর্কটি তৈরি হয়েছে। তাই রুবেলের দুলাভাই মি. আব্দুল মালেক বৈবাহিক সূত্রীয় জ্ঞাতির অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈবাহিক সূত্রীয় জ্ঞাতি ছাড়াও সমাজবিজ্ঞানে জ্ঞাতিসম্পর্কের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন রয়েছে— উক্তিটি যথার্থ।
সমাজবিজ্ঞানে প্রধানত চারটি মূল সম্পর্কের ভিত্তিতে জ্ঞাতিসম্পর্ককে ভাগ করা যায়:
১. রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি (Consanguineal Kin): অভিন্ন পূর্বপুরুষ বা রক্তের সংযোগের মাধ্যমে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যেমন: পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান ইত্যাদি।
২. বৈবাহিক সূত্রীয় জ্ঞাতি (Affinal Kin): যা উদ্দীপকে উল্লেখিত দুলাভাই-শ্যালক বা শ্বশুর-শাশুড়ি সম্পর্কের মতো বিবাহের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।
৩. কাল্পনিক বা ধারণাগত জ্ঞাতি (Fictive Kin): রক্তের বা বিবাহের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক আন্তরিকতা বা সামাজিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে জ্ঞাতি হিসেবে গণ্য করা হয়, যেমন: পাতানো ভাই, ধর্মবোন ইত্যাদি।
৪. প্রথাগত জ্ঞাতি (Ritual Kin): কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যেমন: গডফাদার, দুধভাই বা ধর্মের মা ইত্যাদি।এছাড়া দূরত্বের মাত্রা অনুসারে নৃবিজ্ঞানী মারডক জ্ঞাতিকে আরও তিন ভাগে ভাগ করেছেন:
ক. প্রাথমিক জ্ঞাতি (Primary Kin): যাদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক থাকে (যেমন: বাবা, মা, ভাই, বোন ইত্যাদি; মোট ৮ ধরনের)।
খ. মাধ্যমিক জ্ঞাতি (Secondary Kin): প্রাথমিক জ্ঞাতির প্রাথমিক জ্ঞাতি (যেমন: দাদার ভাই, মামা, শ্যালক; মোট ৩৩ ধরনের)।
গ. প্রগৌণ বা তৃতীয় পর্যায়ের জ্ঞাতি (Tertiary Kin): মাধ্যমিক জ্ঞাতির প্রাথমিক জ্ঞাতি (যেমন: মামাতো ভাই, ভগ্নিপতির বোন; মোট ১৫১ ধরনের)।সুতরাং, জ্ঞাতিসম্পর্ক কেবল বৈবাহিক জ্ঞাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রক্তসম্পর্ক, কাল্পনিক সম্পর্ক এবং দূরত্বের মাত্রার ভিত্তিতে এর বিস্তৃত বিভাজন রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও