অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অর্থনীতির শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে জনসংখ্যা তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এ তত্ত্বের মাধ্যমে দেখান যে, জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্যোৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে। প্রতি ২৫ বছর পর কোনো দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। ফলে খাদ্য ঘাটতিসহ নানা দুর্যোগ নেমে আসে এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই এক সময় উভয়ের মধ্যে সমতা সৃষ্টি হয়। অবশ্য এ তত্ত্বের অনেকটাই বর্তমান যুগে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
- ক)(1)
বেকারত্ব কী?
- খ)(2)
মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায়গুলো কী কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনসংখ্যার কোন তত্ত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কতটুকু কার্যকর?-ব্যাখ্য করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রচলিত বা বিদ্যমান মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি কাজ না পায়, তবে সেই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান প্রধান উপায়গুলো হলো:
১. মানসম্মত শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ।
২. পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ।
৩. আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের বিস্তার।
৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি।
৫. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে থমাস রবার্ট ম্যালথাস কর্তৃক প্রবর্তিত 'ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব' নির্দেশ করা হয়েছে।
১৭৯৮ সালে ম্যালথাস তাঁর 'An Essay on the Principle of Population' গ্রন্থে এই তত্ত্ব প্রদান করেন। তাঁর মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...) বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি ২৫ বছরে তা দ্বিগুণ হয়। পক্ষান্তরে, কৃষিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকার কারণে খাদ্যোৎপাদন গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬...) বৃদ্ধি পায়। ফলে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় এবং চরম খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। ম্যালথাস উল্লেখ করেন যে, এই ঘাটতি দূর করতে মানুষ স্বেচ্ছামূলক প্রতিরোধ না নিলে যুদ্ধ, মহামারি, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক বা ইতিবাচক বাধার মাধ্যমে জনসংখ্যা ও খাদ্যের মধ্যে পুনরায় সমতা স্থাপিত হয়। উদ্দীপকের বক্তব্যটি হুবহু এই ম্যালথাসীয় তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ কার্যকর নয়, বরং এর প্রয়োগ অত্যন্ত সীমিত। এর সপক্ষে কারণসমূহ নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্যোৎপাদনে বিপ্লব: ম্যালথাস ধরে নিয়েছিলেন খাদ্যোৎপাদন কেবল গাণিতিক হারে বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ ব্যবস্থার প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যোৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে এবং খাদ্য ঘাটতি দূর করে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের প্রসার ও শিক্ষার প্রসারের ফলে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে (বর্তমানে প্রায় ১.৩৭%)।
৩. জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর: আধুনিক যুগে জনসংখ্যা শুধুই বোঝা নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত হচ্ছে, যা ম্যালথাসীয় অনুমানের বাইরে ছিল।
৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ: খাদ্য ঘাটতি দেখা দিলেও বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহের মাধ্যমে তা মেটানো সম্ভব, যা ম্যালথাস বিবেচনা করেননি।
তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত সম্পদের ওপর চাপ, পরিবেশ দূষণ ও সীমিত ভূমির মতো কিছু পরোক্ষ চাপ এখনো বিদ্যমান থাকলেও সার্বিকভাবে ম্যালথাসের মূল ভবিষ্যদ্বাণী (অনাহার, মহামারি দ্বারা প্রাকৃতিক সমতা বিধান) বর্তমান বাংলাদেশে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও