যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

রাতুল তার ছোট ভাই সোহানকে বললো, “পাঠ্য বিষয় হিসেবে তুমি এমন বিষয় নির্বাচন করবে যে বিষয়ে রয়েছে নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিয়মকানুন ।" রাতুলের কথা শুনে মামুন বললো, “তুমি এমন বিষয় নির্বাচন কর যে বিষয় কর্ম সম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং তা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।"

  1. ক)

    আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রাতুল ও মামুনের বক্তব্য পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ (বা আরোহ অনুমান) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে বিজ্ঞান কোনো একটি নির্দিষ্ট আদর্শকে সামনে রেখে বিষয়ের মূল্যায়ন করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো 'সত্য'। সত্যের এই পরম আদর্শকে সামনে রেখে যুক্তিবিদ্যা বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্দেশ করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার 'বিজ্ঞান' রূপটিকে নির্দেশ করে।

    বিজ্ঞান হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত ও সুনির্দিষ্ট জ্ঞান, যার পেছনে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও পরীক্ষণ থাকে। উদ্দীপকে রাতুল বলেছে যে, এমন বিষয় নির্বাচন করতে হবে যাতে 'নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয়' রয়েছে এবং 'আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য পর্যাপ্ত নিয়মকানুন' রয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যা চিন্তার নিয়মাবলি সম্পর্কে একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মনিষ্ঠ বিজ্ঞান। এটি চিন্তা বা অনুমানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রণয়ন ও বিশ্লেষণ করে সত্যতা যাচাই করে। অতএব, রাতুলের বক্তব্যে সুশৃঙ্খল নিয়মাবলি ও নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয়ের উল্লেখ থাকায় তা যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান রূপকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাতুল ও মামুনের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—'বিজ্ঞান' ও 'কলা' হিসেবে যুক্তিবিদ্যার পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে।

    রাতুলের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান হিসেবে তুলে ধরে। বিজ্ঞান সুসংবদ্ধ জ্ঞান এবং নিয়ম প্রণয়ন করে। যুক্তিবিদ্যাও অনুমানের সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল নিয়মাবলি আবিষ্কার ও আলোচনা করে, যা সত্য অর্জনে পথনির্দেশ করে। তাই রাতুলের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপকে সমর্থন করে।

    অন্যদিকে, মামুনের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যাকে একটি 'কলা' হিসেবে নির্দেশ করে। কারণ মামুন এমন বিষয়ের কথা বলেছে যা 'কর্ম সম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল'। যুক্তিবিদ্যা কেবলমাত্র তাত্ত্বিক নিয়ম শেখায় না, বরং চিন্তার সেই নিয়মাবলিকে বাস্তব যুক্তিতর্ক ও চিন্তার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে প্রয়োগ করার বাস্তব কলাকৌশলও শেখায়। কলাবিদ্যা যেমন বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞানের প্রায়োগিক দিক, যুক্তিবিদ্যাও তেমনি এর নিয়মগুলোকে বাস্তবে প্রয়োগের পদ্ধতি প্রদর্শন করে।

    অতএব, যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা। পঠিত বিষয়ের আলোকে দেখা যায়, রাতুলের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান সত্তা এবং মামুনের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার কলা সত্তা প্রকাশিত হয়েছে, যা পরস্পর পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন