অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০১০-২০২১ এর আওতায় ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১০-২০১৫ এবং সম্প্রতি ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বর্তমানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৯২ হাজার ৫ শত কোটি টাকার ব্যয় বরাদ্দ সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার (ADP) অন্তর্গত ১২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। সরকার আশা করছে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা সম্ভব।

  1. ক)

    উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    নির্দেশভিত্তিক পরিকল্পনায় অবাধ বাজার প্রক্রিয়াকে প্রশ্রয় দেয়া হয় না-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সময় মেয়াদের ভিত্তিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের মনোভাবের যথার্থতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্পদ বণ্টন ও ব্যবহারের পূর্বনির্ধারিত সুচিন্তিত কর্মসূচি বা রূপরেখাকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দেশভিত্তিক পরিকল্পনায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা থাকে রাষ্ট্রের এবং যাবতীয় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যেমন—উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ ও দাম নির্ধারণ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্দেশ আকারে বাস্তবায়িত হয়। এতে কোনো মুক্ত বাজার ব্যবস্থা বা স্বয়ংক্রিয় দাম প্রক্রিয়ার সুযোগ থাকে না। ব্যক্তিমালিকানা ও ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় এবং সমাজকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় নির্দেশভিত্তিক পরিকল্পনায় অবাধ বাজার প্রক্রিয়াকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সময় মেয়াদের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। উদ্দীপকে এই তিন ধরনের পরিকল্পনারই উল্লেখ রয়েছে:

    ১. স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা: সাধারণত এক বছর মেয়াদের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। উদ্দীপকে বর্ণিত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য গৃহীত ১ বছর মেয়াদি 'বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি' (ADP) হলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার উদাহরণ।

    ২. মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা: সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদের পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত ২০১০-২০১৫ মেয়াদের '৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা' এবং ২০১৬-২০২০ মেয়াদের '৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা' হলো মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।

    ৩. দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা: সাধারণত ১০ থেকে ২০ বা তদূর্ধ্ব বছরের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনের জন্য গৃহীত পরিকল্পনাকে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'রূপকল্প ২০১০-২০২১' (১১ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা) দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ব্যাপারে সরকারের মনোভাব সম্পূর্ণ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।

    একটি উন্নয়নশীল দেশের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সমৃদ্ধির জন্য সুদূরপ্রসারী প্রেক্ষিত পরিকল্পনার অধীনে ধারাবাহিক মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের 'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ ও ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) সমন্বিত উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়।

    ধারাবাহিক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত খাতে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ বাড়ানো হয়, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া ১২৫টি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের সাথে স্বল্পমেয়াদি বার্ষিক বাজেটের সমন্বয় ঘটানো হলে সম্পদের অপচয় রোধ হয় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

    অতএব, সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ব্যাপারে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও মনোভাব সর্বতোভাবে যৌক্তিক ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন