সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য বিজন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার বাসিন্দা। সে অস্ট্রালয়েড নরবংশের অন্তর্ভুক্ত। বাবার মৃত্যুর পর বিজন ও তার ভাই বাবার সব সম্পত্তির মালিক হয়। তাদের কথা বলার নিজস্ব ভাষা আছে। বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি জেলায় বাস করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য কণিকার পরিবার। মায়ের মৃত্যুর পর কণিকা সব সম্পত্তির মালিক হয়। তাদের নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশ ধর্মান্তরিত।
- ক)(1)
কোচ নৃগোষ্ঠীর ভাষা কী?
- খ)(2)
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নৃত্যের মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিজন বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে কণিকার উত্তরাধিকার নীতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোচ নৃগোষ্ঠীর ভাষার নাম কোচ ভাষা (বা 'থার' বা 'কচুবাত')।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারায় নৃত্য ও সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, বরং তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসবের অপরিহার্য অংশ। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যগুলোতে সাধারণত প্রকৃতি বন্দনা, ফসল রোপণ ও কাটা, শিকার, যুদ্ধ কিংবা আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক পার্বণে (যেমন- বিজু, ওয়াংগালা, কারাম ইত্যাদি) তারা নিজস্ব পোশাক ও বাদ্যযন্ত্র সহযোগে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারণ ও তুলে ধরে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিজন বাংলাদেশের 'সাঁওতাল' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
বাংলাদেশে বসবাসকারী সাঁওতালরা প্রধানত উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ইত্যাদি জেলায় বসবাস করে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, সাঁওতালরা প্রোটো-অস্ট্রালয়েড বা অস্ট্রালয়েড নরবংশের অন্তর্ভুক্ত। এদের সমাজব্যবস্থা পিতৃপ্রধান এবং উত্তরাধিকার নীতিও পিতৃসূত্রীয়; অর্থাৎ পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানেরাই সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। এছাড়া তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যার নাম সাঁওতালি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিজন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা এবং সে অস্ট্রালয়েড নরবংশের অন্তর্ভুক্ত। বাবার মৃত্যুর পর সে ও তার ভাই পিতৃসম্পত্তির মালিক হয়, যা সাঁওতালদের পিতৃসূত্রীয় সমাজব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। তাছাড়া তাদের নিজস্ব ভাষাও রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে উদ্দীপকের বিজন সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কণিকা মাতৃতান্ত্রিক 'গারো' নৃগোষ্ঠীর সদস্য এবং তার ক্ষেত্রে মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃসূত্রীয় উত্তরাধিকার নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।
গারোরা প্রধানত বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলীয় বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও নেত্রকোণা জেলায় বাস করে। গারো সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। এ সমাজে পরিবারের প্রধান হলেন মা এবং পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন কন্যারা। সাধারণত পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা (নকনা) পরিবারের মূল সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হয়। বর্তমানকালে গারোদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, কণিকার পরিবার বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি জেলায় বাস করে, তার নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশ ধর্মান্তরিত এবং মায়ের মৃত্যুর পর কণিকা সব সম্পত্তির মালিক হয়। এটি স্পষ্টভাবে গারো সমাজের মাতৃসূত্রীয় উত্তরাধিকার প্রথাকে প্রকাশ করে। গারো প্রথা অনুযায়ী, পরিবারের মা মারা গেলে পুত্রসন্তানেরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না, বরং কন্যা সন্তানেরাই সম্পত্তির মালিকানা পায়। এভাবে ঐতিহ্যগতভাবে তাদের পরিবারে মাতৃধারায় সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর ও বংশমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। অতএব, কণিকার উত্তরাধিকার নীতি হলো গারোদের প্রচলিত মাতৃতান্ত্রিক উত্তরাধিকার নীতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও