জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমনার নির্দিষ্ট সময় পর পর কাঁপুনিসহ জ্বর আসে। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষার মাধমে জানালেন RBC-তে অণুজীব সংক্রমণের মাধ্যমে এই জ্বর হয়।

  1. ক)

    কায়াজমা কী?

    (1)
  2. খ)

    অপুংজনি বলতে কি বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিশেষ কণিকায় পরজীবীটির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রোগটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিয়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে 'X' আকৃতির যে সংযোগস্থল সৃষ্টি হয়, তাকে কায়াজমা (Chiasma) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিষেক ক্রিয়া ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ বা অপত্য সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বলে। এটি প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম হতে পারে। মৌমাছি, বোলতা, পিঁপড়ে এবং কিছু উদ্ভিদে অপুংজনি প্রক্রিয়া দেখা যায়। এতে উৎপন্ন অপত্য সাধারণত হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিশেষ কণিকাটি হলো মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকা (RBC) এবং পরজীবীটি হলো ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium)। লোহিত রক্তকণিকায় এর অযৌন জনন তথা এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. ট্রফোজয়েট (Trophozoite): যকৃৎ থেকে মুক্ত হওয়া মেরোজয়েট লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে গোল আকার ধারণ করে। এর সাইটোপ্লাজম ক্ষুদ্র ও কেন্দ্রস্থলে একটি নিউক্লিয়াস থাকে।
    ২. সিগনেট রিং (Signet Ring): ট্রফোজয়েটের অভ্যন্তরে একটি ভ্যাকুওল বা গহ্বর সৃষ্টি হওয়ায় নিউক্লিয়াসটি পরিধির দিকে সরে যায়। ফলে এটি আংটির মতো দেখায়, যাকে সিগনেট রিং বলে।
    ৩. অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট (Amoeboid Trophozoite): ভ্যাকুওল বিলুপ্ত হয়ে ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবাণুটি অনিয়মিত আকার ধারণ করে। এ সময় লোহিত রক্তকণিকায় হিমোজয়েন নামক বিষাক্ত বর্জ্য এবং শাফনার্স দানা (Schüffner's dots) দৃশ্যমান হয়।
    ৪. সাইজন্ট (Schizont): অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েটের নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে ১২–২৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে।
    ৫. রোজেট (Rosette): অপত্য নিউক্লিয়াসগুলোর চারপাশে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে মেরোজয়েট গঠন করে। এরা সাইজন্টের কেন্দ্রে হিমোজয়েন দানা রেখে পরিধির দিকে দুই স্তরে পাপড়ির মতো সাজানো থাকে, যা দেখতে গোলাপ ফুলের মতো (রোজেট)।
    ৬. মেরোজয়েট মুক্তি: শেষপর্যায়ে লোহিত রক্তকণিকার প্রাচীর ফেটে যায় এবং মেরোজয়েট ও হিমোজয়েন রক্তরসে মুক্ত হয়। হিমোজয়েনের প্রভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রোগটি হলো ম্যালেরিয়া, যা প্লাজমোডিয়াম পরজীবীর সংক্রমণে ঘটে এবং অ্যানোফিলিস (Anopheles) জাতীয় স্ত্রী মশার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষা (ব্যক্তিগত সুরক্ষা):

    • ঘুমানোর সময় কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার করা।
    • ঘরের দরজা-জানালায় তারের নেট লাগানো।
    • শরীর ঢেকে রাখা পোশাক পরিধান করা এবং উন্মুক্ত অঙ্গে মশানিরোধক ক্রিম বা তেল (repellent) ব্যবহার করা।

    ২. মশা নিধন ও বংশবৃদ্ধি রোধ:

    • মশার প্রজননস্থল যেমন—বাসার আশপাশের ড্রেন, ডোবা, নর্দমা, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা।
    • পানিতে মশার লার্ভা ও পিউপা ধ্বংসের জন্য কীটনাশক (যেমন- লার্ভিসাইড, কেরোসিন, টেমিফস) স্প্রে করা।
    • পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসের জন্য ডিডিটি, মেলাথিয়ন বা পাইরেথ্রয়েড জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করা বা ধোঁয়া (ফগিং) প্রয়োগ করা।
    • জৈবিক দমন হিসেবে গাপ্পি, তেলাপিয়া প্রভৃতি লার্ভাখেকো মাছ ডোবা বা নর্দমায় অবমুক্ত করা।

    ৩. রোগীর চিকিৎসা ও পরজীবী নিধন:

    • ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন- ক্লোরোকুইন, কুইনাইন বা আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক ওষুধ) দিয়ে পূর্ণ নিরাময় করা, যাতে তার দেহ থেকে জীবাণু অন্য মশায় ছড়াতে না পারে।
    • ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণের আগে প্রতিরোধমূলক ওষুধ সেবন করা।

    ৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধি:

    • ম্যালেরিয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।

    সুতরাং, মশক নিধন, ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং সময়োপযোগী চিকিৎসার সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই ম্যালেরিয়া কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন