বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

দেশমাতৃকার মুক্তির শপথ নিয়ে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয় হুমায়ুন সাহেবের পাঁচ ছেলে। রাজাকারের মাধ্যমে এই খবর জানতে পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হুমায়ুন সাহেবের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। অবশেষে ক্যাম্পে ধরেও নিয়ে যায় তাঁকে, বারবার জানতে চায় তাঁর ছেলেদের ঠিকানা। হুমায়ুন সাহেব চুপ করে থাকলে তাঁর পিঠের ওপর প্রচণ্ড জোরে চাবুকের আঘাত করে। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।. রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয় তাঁর শরীর। তবু তিনি মুক্তিবাহিনীর কোনো খবর দেন না হানাদার বাহিনীকে।

  1. ক)

    নুরুল হুদা কোন বিষয়ের লেকচারার ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ভালোই হলো । তোমার গোড়ালি পর্যন্ত ঢাকা পড়েছে। পায়েও বৃষ্টি লাগবেনা।”—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হুমায়ুন সাহেবের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র কোনটি? আলোচনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    “দেশকে মুক্ত করার জন্য বাঙালি জনসাধারণের আত্মত্যাগই উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য। ” — মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নুরুল হুদা রসায়নের লেকচারার ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি নুরুল হুদার স্ত্রী আসমা বর্ষার দিনে স্বামীর গায়ে তার ভাইয়ের রেইনকোটটি ভালোভাবে মানিয়েছে এবং তা বৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে বোঝাতে করেছিল।

    মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোটটি আসমা নুরুল হুদাকে পরিয়ে দেয়, যাতে প্রিন্সিপালের তলবে কলেজে যাওয়ার পথে নুরুল হুদা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পান। খাটো নুরুল হুদার গায়ে লম্বা মিন্টুর রেইনকোটটি বেশ ঢিলেঢালা হলেও তা তাঁর গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে ফেলেছিল। আসমা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং বৃষ্টির সুরক্ষা ভেবেই মন্তব্যটি করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হুমায়ুন সাহেবের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রের শেষ পরিণতির মানসিক দৃঢ়তার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'রেইনকোট' গল্পে নুরুল হুদা ছিলেন অত্যন্ত ভীতু ও নিরীহ প্রকৃতির এক কলেজ শিক্ষক। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের রেখে যাওয়া রেইনকোট গায়ে দেওয়ার পর তাঁর মধ্যে অদ্ভুত এক দেশপ্রেম ও সাহসের সঞ্চার হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানার জন্য নির্মম নির্যাতন চালায়। সিলিং থেকে ঝুলিয়ে চাবুক মেরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত করে ফেলা হলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং নীরব থেকে গর্ববোধ করেছেন।

    উদ্দীপকের হুমায়ুন সাহেবও একইভাবে তাঁর ছেলেদের মুক্তিবাহিনীর ঠিকানা জানার জন্য পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বর চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হন। প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেও তিনি দেশ ও মুক্তিসেনাদের সাথে বেইমানি করেননি। পাকিস্তানি সেনাদের অমানুষিক নির্যাতনের মুখে দেশের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে হুমায়ুন সাহেব ও নুরুল হুদা চরিত্র দুটি একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট’ গল্পের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের মুখে সাধারণ মানুষের নির্ভীক প্রতিরোধ ও দেশপ্রেমের চরম আত্মত্যাগই উভয় রচনার মূল সুর—তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, একাত্তরের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে নুরুল হুদার মতো সাধারণ, ভীতু শিক্ষকও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী রেইনকোট গায়ে জড়িয়ে দেশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। হানাদারদের অকথ্য মারধর সহ্য করেও তিনি মুক্তিবাহিনীর সহযোদ্ধার মতো অবিচল থাকেন। শারীরিক যন্ত্রণাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তিনি দেশের জন্য নীরব আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক সাহসী রূপ ধারণ করেন।

    অন্যদিকে উদ্দীপকের হুমায়ুন সাহেব তাঁর পাঁচ ছেলেকে দেশমাতৃকার মুক্তির যুদ্ধে পাঠিয়ে নিজে হানাদারদের রোষানলে পড়েন। ভিটেমাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও এবং ক্যাম্পের ভেতর চাবুকের নির্মম আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হলেও তিনি হানাদারদের কাছে মাথা নত করেননি। দেশের স্বাধীনতার স্বার্থে তিনি অকাতরে নিজের জীবন ও রক্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

    উভয় ক্ষেত্রেই ফুটে উঠেছে যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল সম্মুখ সমরে থাকা গেরিলাদের দ্বারাই অর্জিত হয়নি, বরং সাধারণ জনগণের বীরত্বপূর্ণ মনোভাব, সীমাহীন নিপীড়ন সহ্য করার ক্ষমতা এবং অকৃত্রিম আত্মত্যাগের ফলেই সম্ভব হয়েছিল। সুতরাং, দেশকে মুক্ত করার জন্য বাঙালি জনসাধারণের আত্মত্যাগই যে মূল প্রতিপাদ্য, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন