কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
শাওন ও দুলু মিয়া বকুলতলা গ্রামে 'তারুণ্যের আলো' সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছে। তারা গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও দুস্থ নারীদের সংগঠিত করে বন বিভাগের সাথে সমঝোতা চুক্তি করে ২০ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশে আকাশমনি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ লাগায়।
- ক)(1)
কৃষি বন কী?
- খ)(2)
বৃক্ষের ট্রেনিং-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
"তারুণ্যের আলো সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা" কী ধরনের বনায়ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়? উক্ত বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বকুলতলার জনগোষ্ঠীর বনায়ন কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান পরিবেশ সংরক্ষণে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বৃক্ষ, ফসল এবং পশুপাখি বা মাছের পরিকল্পিত ও সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থাকে কৃষি বন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃক্ষকে নির্দিষ্ট কাঠামো বা কাঙ্ক্ষিত আকৃতি দেওয়ার জন্য গাছের অঙ্গ ছাঁটাই ও পরিচর্যা করার পদ্ধতিকে ট্রেনিং বলে।
গাছের চারা অবস্থায় অবাঞ্ছিত ডালপালা কেটে গাছকে সোজাভাবে ওপরে বাড়তে দেওয়া, একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত কাণ্ডকে শাখামুক্ত রাখা এবং গাছের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ট্রেনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে কাঠ উৎপাদনকারী গাছের কাঠের মান বৃদ্ধি পায়, গাছ ঝড়ে সহজে ভেঙে পড়ে না এবং ফলবান গাছে আলো-বাতাস প্রবেশ সহজ হয়ে রোগবালাইয়ের আক্রমণ কমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'তারুণ্যের আলো সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা' সামাজিক বনায়ন (বিশেষ করে প্রান্তিক ভূমিতে বা সড়কের পাশে স্ট্রিপ প্ল্যান্টেশন/স্ট্রিপ বনায়ন) কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়।
উক্ত বনায়নের প্রয়োজনীয়তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা: সড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষিত হয় এবং প্রচুর অক্সিজেন নির্গত হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
২. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মাটির ক্ষয়রোধ: গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, ফলে সড়কের মাটির ক্ষয়রোধ হয় এবং ঝড়-বাতাসের তীব্রতা কমে গিয়ে সড়ক ও আশপাশের জনপদ রক্ষা পায়।
৩. পথচারীদের ছায়া ও ফলমূল সরবরাহ: সড়কের পাশে গাছপালা থাকায় পথচারীরা ছায়া পায় এবং রোপিত বৃক্ষ থেকে ফল ও কাঠের চাহিদা পূরণ হয়।
৪. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: চুক্তিভিত্তিক বনায়নের ফলে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী কাঠ ও ফল বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বকুলতলার জনগোষ্ঠীর বনায়ন কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন: উদ্দীপকে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও দুস্থ নারীদের সম্পৃক্ত করে বন বিভাগের সাথে চুক্তির ভিত্তিতে ২০ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশে আকাশমনি, রেইনট্রি, নিম প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়েছে। সামাজিক বনায়নের নীতিমালা অনুযায়ী গাছের বিক্রয়মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ উপকারভোগী দরিদ্র জনগণ পেয়ে থাকে। ফলে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে সফল হবে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: চারা রোপণ, বেড়া দেওয়া, নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও নিরাপত্তা বিধানের মতো সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে গ্রামের বেকার তরুণ ও দুস্থ নারীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের বিকল্প ও স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি হয়।
৩. পরিবেশ সংরক্ষণ: সড়কের পাশে গাছ লাগানোর ফলে বাতাসের দূষণ হ্রাস পায় এবং মাটির গঠন সুদৃঢ় হয়ে ভূমিক্ষয় রোধ হয়। এছাড়া আকাশমনি, নিম ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ হিসেবে কাজ করে এবং নিম গাছ বায়ু বিশুদ্ধকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এ বৃক্ষরাজি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়ন ঘটায়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত বনায়ন উদ্যোগটি দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুস্থ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এবং এলাকার সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী ও টেকসই ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও