জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শীতকালে সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে অনেক অতিথি পাখি আসে। এটি এক ধরনের আচরণিক বৈশিষ্ট্য।
- ক)(1)
ট্যাক্সিস কি?
- খ)(2)
আ্যল্ট্রুইজম বলতে কি বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণির পরিযান প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ঘন্টা বাজিয়ে মাংস দেখালে কুকুরের জিভে জল আসে --এ আচরণটি উদ্দীপকের এর বর্ণিত আচরণ হতে ভিন্ন -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাহ্যিক কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন বা দিকমুখীন চলনকে ট্যাক্সিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যাল্ট্রুইজম বা পরার্থপরতা হলো প্রাণীর এমন এক ধরনের আচরণ, যার মাধ্যমে কোনো প্রাণী নিজের জীবন বিপন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত করে অন্য সদস্যের জীবন রক্ষা, প্রতিপালন বা কল্যাণ সাধনে আত্মনিয়োগ করে। উদাহরণস্বরূপ, শ্রমিক মৌমাছি নিজেরা প্রজননে অংশ না নিয়ে রাণী মৌমাছি ও লার্ভাদের লালন-পালন ও কলোনির সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীর পরিযান প্রক্রিয়াটি হলো পরিযায়ী পাখির মাইগ্রেশন (Migration) বা পরিযান।
প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা পেতে, খাদ্যের প্রাচুর্য অন্বেষণে এবং উপযুক্ত প্রজনন পরিবেশের সন্ধানে পাখিরা নির্দিষ্ট ঋতুতে এক স্থান থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে অন্য স্থানে গমন করে এবং অনুকূল সময়ে পুনরায় মূল আবাসে ফিরে আসে। এ প্রক্রিয়াটি একটি সহজাত ও বংশানুক্রমিক আচরণ (Innate behavior)।শীতকালে সাইবেরিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যায় এবং বরফে ঢাকা পড়ে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ফলে এ অঞ্চলের পাখিগুলো (যেমন: বালিহাঁস, চখাচখি, খঞ্জনা ইত্যাদি) তুলনামূলক উষ্ণ ও খাদ্যে সমৃদ্ধ দেশগুলোতে (যেমন: বাংলাদেশে) পরিযান করে। দিক নির্ণয়ের জন্য পরিযায়ী পাখিরা সূর্যের অবস্থান, নক্ষত্রমণ্ডল, পৃথিবীর ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র, নদী বা পর্বতের মতো ভৌগোলিক ল্যান্ডমার্ক এবং ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে পথ অতিক্রম করে। বসন্তের শেষে নিজ বাসস্থানের আবহাওয়া অনুকূল হলে তারা পুনরায় পূর্বের অঞ্চলে ফিরে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘণ্টা বাজিয়ে মাংস দেখালে কুকুরের জিভে জল আসা—এ আচরণটি উদ্দীপকে বর্ণিত পাখির পরিযান আচরণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উদ্দীপকের আচরণটির প্রকৃতি: উদ্দীপকে বর্ণিত অতিথি বা পরিযায়ী পাখির পরিযান হলো একটি 'সহজাত আচরণ' (Innate behavior)। এটি জিননিয়ন্ত্রিত, জন্মসূত্রে প্রাপ্ত, অনমনীয় এবং কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। সব সদস্যের মধ্যে এটি একইভাবে প্রকাশ পায়।
২. প্রশ্নে উল্লেখিত আচরণটির প্রকৃতি: ঘন্টা বাজানোর পর খাবার উপস্থাপন করলে কুকুরের মুখ থেকে লালা নিঃসৃত হওয়া হলো রুশ বিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ কর্তৃক বর্ণিত 'সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া' (Conditioned reflex), যা মূলত একটি অর্জিত বা শিক্ষালব্ধ আচরণ (Learned behavior)। এটি জন্মগত নয়; অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাণীর জীবনকালে গড়ে ওঠে।
৩. পার্থক্যসমূহ:
- উৎপত্তি: পরিযান বংশগতভাবে সংকেতাবদ্ধ (genetic), কিন্তু প্যাভলভের পরীক্ষার আচরণটি কৃত্রিম উদ্দীপকের সাথে বারবার উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
- উদ্দীপকের প্রভাব: খাদ্য দেখলে লালা ক্ষরণ একটি স্বাভাবিক/অশর্তাধীন প্রতিক্রিয়া; কিন্তু কেবল ঘণ্টার শব্দে লালা ক্ষরণ হলো শর্তাধীন প্রতিক্রিয়া (Conditioned response), যা পরিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- স্থায়িত্ব ও পরিবর্তনশীলতা: সহজাত আচরণ নির্দিষ্ট ও সহজে পরিবর্তিত হয় না, পক্ষান্তরে সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া অনুশীলন না থাকলে (বিলুপ্তি বা extinction) লোপ পেতে পারে।
সুতরাং, পাখির পরিযান একটি সহজাত আচরণ হলেও কুকুরের ঘণ্টা বাজিয়ে লালা নিঃসরণ একটি অর্জিত শিক্ষালব্ধ বা সাপেক্ষ আচরণ, তাই আচরণ দুটি পরস্পর ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও