যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: সকল পাখি হয় সুন্দর সকল দোয়েল হয় পাখি ∴\therefore সকল দোয়েল হয় সুন্দর। দৃষ্টান্ত-২: সুমন হয় মরণশীল সজল হয় মরণশীলগীতা হয় মরণশীলমিতা হয় মরণশীল∴\therefore সকল মানুষ হয় মরণশীল।

  1. ক)

    অনুমান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের তুলনায় কম ব্যাপক হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-২ এ কোন ধরনের অনুমানকেনির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা বা জ্ঞাত সত্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজানা বা অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবরোহ অনুমানে আমরা সার্বিক নিয়ম বা সিদ্ধান্ত থেকে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তে গমন করি। এর মূল উদ্দেশ্য থাকে আশ্রয়বাক্যগুলোতে নিহিত সত্যকে স্পষ্ট করা, নতুন কোনো তথ্য বা ব্যাপকতর সত্য প্রতিষ্ঠা করা নয়। ফলে অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না; সিদ্ধান্তটি সর্বদা আশ্রয়বাক্যের সমান বা তার চেয়ে কম ব্যাপক হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-২ এ 'আরোহ অনুমান'কে নির্দেশ করে।

    যে অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ সুমন, সজল, গীতা, মিতা প্রমুখ কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তির মৃত্যুর দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ বা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে—"সকল মানুষ হয় মরণশীল"। এখানে বিশেষ বিশেষ বাস্তব ঘটনা থেকে একটি সার্বিক সত্যে উত্তরণ ঘটেছে এবং এতে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর আস্থা রেখে আরোহমূলক লম্ফ দেওয়া হয়েছে। অতএব, দৃষ্টান্ত-২ হলো আরোহ অনুমানের সুস্পষ্ট উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ অবরোহ অনুমান এবং দৃষ্টান্ত-২ আরোহ অনুমানকে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যায় এই দুটি অনুমানের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরিপূরক।

    এদের সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. গতির বিপরীতমুখিতা: দৃষ্টান্ত-১ (অবরোহ)-এ সার্বিক সত্য ("সকল পাখি হয় সুন্দর") থেকে বিশেষ সিদ্ধান্তে ("সকল দোয়েল হয় সুন্দর") পৌঁছানো হয়েছে। অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-২ (আরোহ)-এ কতিপয় বিশেষ মানুষের মরণশীলতা প্রত্যক্ষ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত ("সকল মানুষ হয় মরণশীল") গঠন করা হয়েছে।

    ২. পারস্পরিক নির্ভরতা: অবরোহ অনুমানের শুরু হয় যে সার্বিক আশ্রয়বাক্য দিয়ে, সেই সার্বিক বাক্যটি মূলত আরোহ অনুমানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন—দৃষ্টান্ত-১ এর আশ্রয়বাক্য "সকল পাখি হয় সুন্দর" আরোহের মাধ্যমেই সংগৃহীত সত্য। আবার আরোহের সিদ্ধান্তের সত্যতা ও নিশ্চয়তা যাচাই করার জন্য অবরোহ পদ্ধতির প্রয়োজন হয়।

    ৩. রূপগত ও বস্তুগত সত্যতা: অবরোহ অনুমান মূলত আকারগত বা রূপগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে, অন্যদিকে আরোহ অনুমান বস্তুগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে। সম্পূর্ণ জ্ঞানের জন্য রূপগত ও বস্তুগত উভয় সত্যতাই আবশ্যক।

    পরিশেষে বলা যায়, অবরোহ ও আরোহ অনুমান পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক এবং একটি ছাড়া অন্যটির লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গতা লাভ করতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন