‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমগ্র ইউরোপ অর্থনৈতিক সংকটে নিপতিত হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অভিন্ন বাজার ব্যবস্থা ও মুদ্রা প্রতিষ্ঠাসহ আরো কিছু উদ্দেশ্য ইউরোপের অধিকাংশ দেশের সমন্বয়ে কঠিত হয় একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট। এ জোট বাংলাদেশি পণ্যের বড় বাজার । এ ছাড়াও এ জোটের সাথে বাংলাদেশের রয়েয়ে বহুবিধ সম্পর্ক ।

  1. ক)

    সার্কের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত।

    (1)
  2. খ)

    জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদীপকে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোটের কথা বলা হয়েছে তার উদ্দেশ্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত লোটের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সার্কের (SAARC) সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন কোনো পরাশক্তি জোটে যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনকে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (Non-Aligned Movement বা NAM) বলা হয়। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরোধিতা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক শান্তি নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union বা EU)-এর কথা বলা হয়েছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
    ২. সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে শুল্কমুক্ত অভিন্ন অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পণ্য, সেবা, পুঁজি ও শ্রমের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা।
    ৩. একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক ও মুদ্রানীতি চালু করা (যেমন: ইউরো মুদ্রার প্রচলন)।
    ৪. ইউরোপীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা।
    ৫. সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সুষম অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধন করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জোটটি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। এই জোটের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হচ্ছে বাংলাদেশি পণ্যের, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের (RMG) বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। ইইউ-এর 'Everything But Arms' (EBA) উদ্যোগের অধীনে বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মূল ভিত্তি।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুশাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইইউ বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।

    তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সাহায্য প্রদানে এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    পরিশেষে বলা যায়, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ছাড়াও শিক্ষা, গবেষণা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন