কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মাশরুম কী?
- খ)(2)
পাটের রিবন রেটিং কেন করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্র-১ উদ্ভিদটি দিয়ে কীভাবে সার তৈরি করা হয়। তা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে চিত্র-২ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাশরুম হলো এক ধরনের ভোজ্য, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ বা ফ্রুটবডি (Fruit body)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বল্প পানিতে অল্প সময়ে গুণগত মানসম্পন্ন পাটের আঁশ পাওয়ার জন্য রিবন রেটিং করা হয়।
সাধারণ পদ্ধতিতে পাট পচাতে প্রচুর পানি ও জলাশয়ের প্রয়োজন হয়, যার অভাবে অনেক সময় পাটের গুণমান নষ্ট হয়। রিবন রেটিং পদ্ধতিতে কাঁচা পাটগাছ থেকে ছাল বা বাকল আলাদা করে গোল গোল বান্ডিল বেঁধে মাটির চাড়িতে বা কম গভীরতার অল্প পানিতে পচানো যায়। এতে পচন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়, পানির সাশ্রয় ঘটে এবং উন্নত মানের চকচকে সোনালি আঁশ পাওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১-এ প্রদর্শিত উদ্ভিদটি হলো ধইঞ্চা, যা দিয়ে সবুজ সার তৈরি করা হয়। নিচে এর প্রস্তুত প্রণালী বর্ণনা করা হলো:
১. জমি নির্বাচন ও বীজ বপন: সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে প্রথম বৃষ্টির পর জমি চাষ দিয়ে পরিমিত দূরত্বে ও ঘন করে ধইঞ্চা বীজ বপন করা হয়।
২. উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিচর্যা: চারা গজালে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গাছ বৃদ্ধির প্রাথমিক অবস্থায় জমির আর্দ্রতা বজায় রাখা হয়।
৩. উপযুক্ত সময় নির্বাচন: ধইঞ্চা গাছের বয়স যখন প্রায় ৪৫-৬০ দিন হয় এবং গাছে ফুল আসার উপক্রম হয়, তখন গাছগুলো বেশ রসালো ও নরম থাকে। এটিই সবুজ সার তৈরির সর্বোত্তম সময়।
৪. জমিতে মেশানো: এই অবস্থায় মই বা ল্যাডার দিয়ে গাছগুলো মাটিতে শুইয়ে দেওয়া হয় এবং মাটি-উল্টানো লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
৫. পচন ও সার তৈরি: মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে পাতা ও নরম কাণ্ড পচে উৎকৃষ্ট সবুজ সারে পরিণত হয়, যা পরবর্তী ফসলের জন্য মাটিকে উর্বর করে তোলে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-২ হলো শিমজাতীয়/লেগিউম ফসলের মূল বা শিকড়, যাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুটি বা নডিউল (Nodule) দেখা যাচ্ছে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধন: লেগিউম উদ্ভিদের শিকড়ের এই নডিউলে রাইজোবিয়াম (Rhizobium) নামক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। এরা সরাসরি বায়ুমণ্ডলীয় মুক্ত নাইট্রোজেন শোষণ করে জৈব নাইট্রোজেনে রূপান্তর করে মাটিতে জমা করে।
২. রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস: শিকড়ে উৎপন্ন এই জৈব নাইট্রোজেন পরবর্তী ফসলের চাহিদা পূরণ করে, যার ফলে জমিতে কৃত্রিম ইউরিয়া সারের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
৩. জৈব পদার্থের সংযোজন: ফসল তোলার পর নডিউলযুক্ত শিকড় ও অবশিষ্টাংশ মাটির নিচে পচে গিয়ে মাটিতে হিউমাস ও জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা মাটির প্রাণ হিসেবে কাজ করে।
৪. মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ উন্নয়ন: শিকড়ের পচনের ফলে মাটির গঠন উন্নত হয়, মাটির রন্ধ্রতা ও বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে।
৫. অণুজীবের সক্রিয়তা বৃদ্ধি: মাটিতে উপকারী জীবাণুর বিস্তার ঘটে, যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য করতে সহায়তা করে।
অতএব, চিত্র-২ এ প্রদর্শিত নডিউলযুক্ত শিকড় প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থ যুক্ত করে মাটির দীর্ঘমেয়াদী উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও