জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৬৩ সালে যৌথভাবে তিনজন বিজ্ঞানী জীবকোষের অতিসূক্ষ্ম মলিকুলার অঙ্গাণুর ভৌত মডেল উপস্থাপনের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। যা জীবনের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মৌলিক একক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করে। অপর একটি সূক্ষ্ম অঙ্গাণু যা প্রোটিন সংশ্লেষণে এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে জেনেটিক বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ক)(1)
ট্রান্সক্রিপশন কী?
- খ)(2)
প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেনা হয় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় সূত্র মলিকুলার অঙ্গাণুটির শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম মলিকুলার অঙ্গানুটির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
DNA-এর ছাঁচ থেকে নির্দিষ্ট জেনেটিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিপূরক RNA তৈরির জৈবিক প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোষের সজীব অঙ্গাণুসমূহ এবং জীবনের যাবতীয় মৌলিক জৈবিক কার্যক্রম (যেমন— শ্বসন, বিপাক, প্রোটিন সংশ্লেষণ, পুষ্টি গ্রহণ ইত্যাদি) প্রোটোপ্লাজমেই নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। প্রোটোপ্লাজমের ভৌত এবং রাসায়নিক গঠন ও কার্যকলাপ নষ্ট হয়ে গেলে জীবনের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়। তাই বিজ্ঞানী হাক্সলি প্রোটোপ্লাজমকে 'জীবনের ভৌত ভিত্তি' (Physical basis of life) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় মলিকুলার অঙ্গাণুটি হলো RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড), যা প্রোটিন সংশ্লেষণ করে এবং ভাইরাসের জেনেটিক বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কাজের ভিত্তিতে RNA-কে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
১. বার্তাবহ RNA (mRNA): এটি DNA থেকে জেনেটিক সংকেত বহন করে সাইটোপ্লাজমের রাইবোজোমে নিয়ে আসে এবং প্রোটিন তৈরির নকশা নির্ধারণ করে। মোট RNA-এর প্রায় ৫-১০% হলো mRNA।
২. রাইবোজোমাল RNA (rRNA): এটি রাইবোজোমের মূল গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং প্রোটিন তৈরিতে রাইবোজোম গঠনে সহায়তা করে। কোষের মোট RNA-এর প্রায় ৮০-৮৫% হলো rRNA।
৩. পরিবহন RNA (tRNA): এটি সাইটোপ্লাজম থেকে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করে প্রোটিন তৈরির স্থানে (রাইবোজোমে) নিয়ে আসে। মোট RNA-এর প্রায় ১০-১৫% হলো tRNA।
৪. বংশগতীয় RNA (gRNA): যেসব ভাইরাসে DNA থাকে না (যেমন- TMV, HIV), তাদের দেহে RNA-ই বংশগতীয় তথ্য বহন করে। এদের জেনেটিক বা বংশগতীয় RNA বলে।
৫. ক্ষুদ্র নিউক্লীয় RNA (snRNA): এটি কোষের নিউক্লিয়াসে উপস্থিত থাকে এবং বিভিন্ন প্রোটিনের সাথে মিলে প্রাক-mRNA এর স্প্লাইসিং (splicing) প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম মলিকুলার অঙ্গাণুটি হলো DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড), যার ডাবল হেলিক্স ভৌত মডেল প্রদানের জন্য ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিন্স নোবেল পুরস্কার পান। জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে DNA-এর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বংশগতির মূল ভিত্তি ও নীলনকশা: DNA হলো সকল জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের রাসায়নিক একক। পিতামাতার যাবতীয় জিনগত তথ্য বা নীলনকশা DNA-এর নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সে সুনির্দিষ্টভাবে সংকেতায়িত থাকে।
২. জিনের ধারক ও বাহক: DNA-এর কার্যকরী অংশকে জিন বলে, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী। জীবের শারীরিক গঠন, চোখের রং, ত্বকের বর্ণ, স্বভাব ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট জিন DNA-তে অবস্থান করে।
৩. সেন্ট্রাল ডগমা ও প্রোটিন সংশ্লেষণ: জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সরাসরি কোনো রাসায়নিক ক্রিয়া ছাড়াই প্রকাশ পায় না, বরং তা প্রকাশিত হয় সুনির্দিষ্ট প্রোটিন ও এনজাইমের মাধ্যমে। DNA থেকে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় mRNA তৈরি হয় এবং mRNA-এর সংকেত অনুযায়ী ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা এনজাইম গঠিত হয়, যা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
৪. বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক সঞ্চারণ: কোষ বিভাজনের সময় DNA প্রতিলিপন (replication) এর মাধ্যমে হুবহু অনুলিপি তৈরি করে জননকোষের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করে।অতএব, জীবের প্রতিটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণের সর্বপ্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে DNA কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও