ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

নবারুন পিএলসি একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিকে ক্রয়, উৎপাদন, বিপণন ও মানবসম্পদ এই চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের কাজ একেকজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিভাগীয় প্রধানরা নিজ বিভাগের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। বিভাগীয় প্রধানদের অধীনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

  1. ক)

    সংগঠন কাঠামো কী?

    (1)
  2. খ)

    একটি আদর্শ সংগঠনে 'কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর' প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সংগঠন কাঠামোটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করা উদ্দীপকের সংগঠন কাঠামোতে সংগঠনের নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ এবং কর্মরত ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব, ক্ষমতা ও সম্পর্কের যে কাঠামো চিত্রে প্রকাশ করা হয়, তাকে সংগঠন কাঠামো বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন নির্বাহীর অধীনে সরাসরি কতজন অধস্তন কর্মী সুষ্ঠু ও দক্ষতার সাথে কাজ তদারকি করতে পারেন, তার সংখ্যাকে তত্ত্বাবধান পরিসর বলে।

    তত্ত্বাবধান পরিসর কাম্য বা উপযুক্ত না হলে ব্যবস্থাপক কর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। পরিসর খুব বড় হলে তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কাজের গতি ব্যাহত হয়; আবার পরিসর খুব ছোট হলে নির্বাহীর সময় ও সামর্থ্যের অপচয় ঘটে। তাই কাজের সুষ্ঠু বণ্টন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে একটি আদর্শ সংগঠনে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সংগঠন কাঠামোটি কার্যভিত্তিক (Functional) সংগঠন কাঠামো।

    প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রধান ভাগে বা বিভাগে বিভক্ত করে প্রতি বিভাগের দায়িত্ব একজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর অর্পণ করা হলে তাকে কার্যভিত্তিক সংগঠন বলে। এই কাঠামোতে প্রতিটি বিভাগের প্রধান নিজ কাজের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হন এবং কর্তৃত্ব ভোগ করেন।

    উদ্দীপকে নবারুন পিএলসি-র কার্যাবলিকে ক্রয়, উৎপাদন, বিপণন ও মানবসম্পদ—এই চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের কাজ একেকজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বিভাগীয় প্রধানরা নিজ নিজ বিভাগের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কাজের প্রকৃতি অনুসারে বিভাগীয়করণ এবং বিশেষজ্ঞের কর্তৃত্ব থাকায় এটি একটি কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমি মনে করি, উদ্দীপকের সংগঠন কাঠামোতে সংগঠনের সকল নীতিমালা পুরোপুরি বা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি; বিশেষ করে আদেশ ও নির্দেশনার ঐক্য নীতি ক্ষুণ্ণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    সংগঠনের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে অন্যতম হলো শ্রমবিভাজন বা বিশেষায়নের নীতি, দায়িত্ব ও ক্ষমতার সমতা নীতি এবং আদেশের ঐক্য নীতি। কোনো সংগঠনে একাধিক নীতি সফলভাবে প্রয়োগ হলেও যদি আদেশের ঐক্য বজায় না থাকে, তবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নবারুন পিএলসি কার্যাবলিকে ক্রয়, উৎপাদন, বিপণন ও মানবসম্পদ বিভাগে ভাগ করে বিশেষায়ন নীতি ও বিভাগীয়করণের নীতি অনুসরণ করেছে। বিভাগীয় প্রধানদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করায় দায়িত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্য নীতিও রয়েছে। কিন্তু কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিভাগীয় প্রধানরা নিজ নিজ বিষয়ের ক্ষেত্রে পূর্ণ কর্তৃত্বের অধিকারী হন। ফলে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একাধিক বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি আদেশ পেতে পারেন, যার ফলে সেখানে 'আদেশের ঐক্য নীতি' লঙ্ঘিত হয়। এছাড়া এতে বিভাগগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ের অভাব দেখা দিতে পারে।

    অতএব, উদ্দীপকের সংগঠনে বিশেষায়ন নীতি মানা হলেও আদেশের ঐক্য ও কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট শৃঙ্খল পুরোপুরি রক্ষিত না হওয়ায় সংগঠনের সকল নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসৃত হয়েছে বলে গণ্য করা যায় না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন