অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জাফর কৃষি কাজ করেন। এ বছর তিনি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আলু উৎপাদন করলেন। ফলনও খুব ভালো হলো। কিন্তু বাজারে আলুর দাম অত্যন্ত কম। রাস্তাঘাট ও যানবাহনের অভাবে জেলা শহরের বাজারে নিতে পারেননি। এমতাবস্থায় স্থানীয় আড়ৎদারদের কাছে সস্তা দামে বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

  1. ক)

    কৃষি খামার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    জাফর আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষিপণ্য বিপণনের সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একক ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তের অধীনে এক বা একাধিক খণ্ডে গঠিত নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে পরিচালিত কৃষিকার্য পরিচালনা ইউনিটকে কৃষি খামার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিংড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় এবং দেশের অর্থনীতিতে এর মূল্যবান অবদানের জন্য এটিকে রূপক অর্থে 'সাদা সোনা' বা 'White Gold' বলা হয়।

    সোনা যেমন মূল্যবান সম্পদ, তেমনি বাংলাদেশের উৎপাদিত হিমায়িত চিংড়ি বিদেশের বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন একটি দামি পণ্য। রপ্তানি বাণিজ্যে বিপুল রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিশেষ অবদান রাখার কারণে চিংড়িকে এই নামে অভিহিত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কৃষক জাফর আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পেছনে কৃষিপণ্য বিপণনের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা দায়ী। কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব: উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, রাস্তাঘাট ও যানবাহনের অভাবের কারণে জাফর তাঁর উৎপাদিত আলু জেলা শহরের বড় বাজারে নিয়ে যেতে পারেননি, যেখানে দাম তুলনামূলক বেশি ছিল।
    ২. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাওয়ার পর আড়ৎদারদের কাছে সস্তায় পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রান্তিক কৃষকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কম মূল্যে পণ্য কিনে নেয়।
    ৩. সংরক্ষণ সুবিধার অভাব: আলুর মতো পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হিমাগারের সুবিধা না থাকায় জাফর পণ্য ধরে রাখতে পারেননি; ফলে তখনই বাজারে সস্তায় তা ছেড়ে দিতে হয়েছে।
    ৪. প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাব: তিনি চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন, ফলে দ্রুত ঋণ পরিশোধের চাপে ফসল ওঠার পরপরই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে কৃষিপণ্য বিপণনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রয়েছে।

    উদ্দীপকে কৃষক জাফর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ এবং জরুরি আর্থিক চাপের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই ধরনের বিপণন সমস্যা দূরীকরণে সরকার নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারে:

    ১. যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: সরকার গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কের নেটওয়ার্ক উন্নত করে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ দিলে কৃষকরা সরাসরি পাইকারি বা জেলা শহরের বাজারে পণ্য পৌঁছাতে পারবেন।
    ২. হিমাগার ও গুদামজাতকরণ সুবিধা সম্প্রসারণ: সরকারি উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা আলু বা পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণ করে দাম বাড়লে বিক্রি করতে পারবেন।
    ৩. সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান: বেসরকারি মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের বিকল্প হিসেবে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জামানতবিহীন ও স্বল্প সুদে ঋণ দিলে কৃষকদের দ্রুত সস্তায় ফসল বিক্রির চাপ থাকবে না।
    ৪. ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ ও ক্রয় কেন্দ্র: সরকার আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয়ের ব্যবস্থা করলে মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ বন্ধ হবে।
    ৫. বাজার তথ্যের সহজলভ্যতা: তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন বাজারের তাৎক্ষণিক দামের তথ্য সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব।

    অতএব, সরকারি সমন্বিত নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন