যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১ এর ব্যাখ্যাটির বৈশিষ্ট্য নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-২ এর ব্যাখ্যাটিকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার ও সংযুক্তকরণের মাধ্যমে কোনো ঘটনার অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়; যেসব বিষয়ের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ নির্ণয় করা যায় না বা প্রকৃতির নিয়মের অধীনে আনা যায় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার যে অপূর্ণতা বা অক্ষমতা দেখা যায় তাকে ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা বলে। যেমন— পরম বা মৌলিক গুণাবলি (যেমন: সুখ, দুঃখ, চেতনা) এবং স্বতঃসিদ্ধ নিয়মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-১ এ একটি মিশ্র বা জটিল কার্য 'দুর্ঘটনা'-কে তার বিভিন্ন উপাদানে বা শর্তে (অসাবধানতা, দ্রুতগতি, ত্রুটিপূর্ণ যান) বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যুক্তিবিদ্যায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এই রূপটিকে বলা হয় 'বিশ্লেষণ' (Analysis)।

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' প্রক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. জটিল বিষয়ের সরলীকরণ: কোনো মিশ্র বা জটিল কার্য বা ঘটনাকে তার গঠনকারী পৃথক পৃথক উপাদানে বা কারণে বিভক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়।
    ২. কার্যকারণ সম্পর্কের সন্ধান: এটি বাহ্যিক কাল্পনিক ধারণার বদলে বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তব শর্তাবলি উদঘাটন করে। এখানে 'দুর্ঘটনা' সংঘটিত হওয়ার পেছনে মূলত অসাবধানতা, দ্রুতগতি এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি সম্মিলিত কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
    ৩. বৈজ্ঞানিক নিয়মভিত্তিক: মিশ্র কার্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপাদানের পৃথক কার্যকারিতা উপলব্ধি করে যৌথ ফলাফল উপলব্ধি করার একটি যুক্তিগ্রাহ্য ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এটি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-২ এ দেখানো হয়েছে: যুদ্ধ →\rightarrow অর্থনৈতিক ক্ষতি →\rightarrow খাদ্যাভাব →\rightarrow দুর্ভিক্ষ। এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম রূপ 'মধ্যবর্তী অবস্থা বা নিয়ম আবিষ্কার ও সংযুক্তি' (Interposition of intermediate links)-কে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড (Carveth Read)-এর মতে, দূরবর্তী দুটি বিষয়ের মধ্যে মধ্যবর্তী স্তরগুলো উন্মোচন করে সংযোগ স্থাপন করাই এই রূপের কাজ।

    চিত্র-২ এর ব্যাখ্যাটির বিশদ বিশ্লেষণ:
    ১. কার্যকারণ শৃঙ্খল উন্মোচন: এখানে 'যুদ্ধ' হলো সুদূরবর্তী কারণ এবং 'দুর্ভিক্ষ' হলো চূড়ান্ত কার্য। আপাতদৃষ্টিতে যুদ্ধের সাথে দুর্ভিক্ষের সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু মধ্যবর্তী স্তরগুলো (অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং খাদ্যাভাব) দেখানোর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটির কার্যকারণ শৃঙ্খল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
    ২. মধ্যবর্তী ধাপসমূহের প্রাসঙ্গিকতা: যুদ্ধের ফলে উৎপাদন ও বাণিজ্যে 'অর্থনৈতিক ক্ষতি' হয়, অর্থনৈতিক ক্ষতির ফলে খাদ্য সংগ্রহ ও বণ্টনে ব্যাঘাত ঘটে 'খাদ্যাভাব' সৃষ্টি হয়, এবং খাদ্যাভাবের চরম রূপ হিসেবে 'দুর্ভিক্ষ' দেখা দেয়।
    ৩. বৈজ্ঞানিক যথার্থতা: মধ্যবর্তী এই ধাপগুলো বৈজ্ঞানিক নিয়মে প্রমাণযোগ্য এবং একটির পর একটি ধাপ স্বাভাবিক নিয়মে অনিবার্যভাবে অনুসৃত হয়।

    সুতরাং, দূরবর্তী ঘটনার অন্তর্নিহিত যোগসূত্র তৈরি করে বাস্তব সত্যকে সুসংহতভাবে উপস্থাপন করায় চিত্র-২ এর ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর রূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন