বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
'পশ্চাতে ফেলি গির্জা-প্যাগোডা মসজিদ-মন্দির এতদিনে আমি মুক্তিপথের সন্ধানী মুসাফির। তোমারে খুঁজিয়া পথে পথে ফিরি, কোথা আছ তুমি খোদা প্রেমিক তোমার তোমার হতে আর কতদিন রবে জুদা?'
- ক)(1)
'দেউল' কী?
- খ)(2)
কবি সাম্যের গান গাইবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'তোমারে খোঁজা' এবং 'সাম্যবাদী' কবিতার 'তোমারে খোঁজা'র বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'সাম্যবাদী' কবিতার বিপরীতধর্মী ভাব উদ্দীপকে বিদ্যমান'- তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দেউল' শব্দের অর্থ দেবালয় বা মন্দির।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, ঐক্য ও মানবতার বিজয় প্রতিষ্ঠা করার জন্যই কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাম্যের গান গাইবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
কবি দেখেছেন জাতপাত, ধর্ম, বর্ণ এবং আভিজাত্যের প্রাচীর দিয়ে সমাজ মানুষকে বিভক্ত করে রেখেছে। অথচ মানুষের অন্তরেই সকল ধর্মের সার সত্য এবং ঈশ্বরের অধিষ্ঠান। বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পরম পরিচয় যে সে মানুষ—এই সত্য প্রতিষ্ঠা করতেই কবি সাম্যবাদের গান গাওয়ার সংকল্প করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে স্রষ্টাকে বাইরে খোঁজার পথ প্রদর্শিত হয়েছে, পক্ষান্তরে 'সাম্যবাদী' কবিতায় স্রষ্টাকে মানুষের নিজের অন্তরেই খুঁজে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে—এখানেই উভয়ের বৈসাদৃশ্য।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি ঘোষণা করেছেন যে উপাসনালয় বা শাস্ত্রের পাতায় ঘুরে স্রষ্টাকে পাওয়ার প্রয়োজন নেই; কারণ মানব হৃদয়ই হলো শ্রেষ্ঠ তীর্থক্ষেত্র ও দেবালয়। নিজের অন্তরকে পবিত্র ও উন্মুক্ত করলেই পরম সত্যের সন্ধান পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে দেখা যায় মুসাফির গির্জা, প্যাগোডা, মসজিদ ও মন্দির পেছনে ফেলে স্রষ্টাকে খুঁজতে পথে পথে ঘুরে ফিরছে এবং বিলাপ করে বলছে যে সে স্রষ্টার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। উদ্দীপকের অনুসন্ধানটি হলো বাইরে ঘুরে ঘুরে স্রষ্টার অন্বেষণ, আর কবিতার অনুসন্ধানটি হলো আত্মোপলব্ধি বা অন্তরের গভীরে স্রষ্টার অনুসন্ধান। এই অন্তর্দর্শন ও বহির্দর্শনের পার্থক্যই হলো প্রধান বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সাম্যবাদী' কবিতার অন্তর্মুখী সত্যোপলব্ধির বিপরীতে উদ্দীপকে স্থান পেয়েছে স্রষ্টার বাহ্যিক সন্ধান ও দূরত্বের হাহাকার, তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে মানুষ নিজেই সব তীর্থ ও জ্ঞানের আধার। তথাকথিত পবিত্র স্থান বা বই-পুস্তকে ঘুরে না ফিরে মানুষ যদি নিজের মনকে চেনে, তবেই সে সত্যের ও খোদার দেখা পাবে। মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই এবং পরমাত্মা মানবাত্মার মাঝেই বিরাজমান।
বিপরীতভাবে, উদ্দীপকে দেখা যায় সাধক প্রাতিষ্ঠানিক উপাসনালয় ত্যাগ করলেও সে স্রষ্টাকে সর্বত্র ঘুরে পথে পথে খুঁজে ফিরছে। সে মনে করে স্রষ্টা তার থেকে দূরে অবস্থান করছেন এবং সে তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে ("তোমার হতে আর কতদিন রবে জুদা?")। এই বিরহভাব এবং বহির্বিশ্বে স্রষ্টাকে খুঁজে বেড়ানোর ধারণা 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল চেতনার পরিপন্থী; কারণ নজরুলের মতে মানুষ নিজের মনের দুয়ার খুললেই খোদার সাক্ষাৎ লাভ করে, বাইরে বিলাপ করে খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না।
অতএব, 'সাম্যবাদী' কবিতার আত্মোপলব্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির তুলনায় উদ্দীপকে বাইরে খোঁজার আকুতি থাকায় উদ্দীপকটিতে কবিতার বিপরীতধর্মী ভাবই প্রকাশিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও