বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

রায়বাড়ির অভিজাত নারী বনশ্রী ছিলেন পরিবারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তিনি পরিবারের ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষায় ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্ষমতা ও সম্পদের প্রতি তার লোভ বেড়ে যায়। সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য তিনি তার আপন ভাই সতীশকে বিশ্বাসঘাতকতার ফাঁদে ফেলেন। স্নেহ-ভালোবাসার মুখোশ পরে সে প্রথমে সতীশকে আপন করে নেয়। সতীশের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালীদের নিজের দলে টানে। আপন বোনের বিশ্বাসঘাতকতায় সতীশ পৈতৃক ভিটা থেকে বিতাড়িত হয়।

  1. ক)

    'অন্ধকূপ হত্যা'র কাহিনী কে প্রচার করেছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে।"-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বনশ্রী ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘষেটি বেগম চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়াও সতীশের মতো সিরাজের চারিত্রিক সরলতা তার পতনের জন্য দায়ী।"-উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অন্ধকূপ হত্যা'র মিথ্যা কাহিনী প্রচার করেছিলেন জন যেফানিয়া হলওয়েল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে”— উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিজের অতিরিক্ত সরলতা ও বিশ্বাসঘাতকদের বারবার ক্ষমা করার ভুলের প্রতি আত্মধিক্কার জানিয়েছেন।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা জানতেন মীর জাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তবুও তিনি তাদের কঠোর শাস্তি না দিয়ে কোরআন স্পর্শ করিয়ে শপথ করিয়ে বারবার বিশ্বাস ও ক্ষমা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই অমূলক বিশ্বাসই দেশের স্বাধীনতা ও তাঁর পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজের এই রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও দুর্বলতার অনুশোচনা থেকেই নবাব এই আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বনশ্রী চরিত্রের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘষেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ, পারিবারিক বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিহিংসাপরায়ণতার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন বড় খালা। কিন্তু নবাবের প্রতি চরম ঈর্ষা ও রাজক্ষমতার লোভে তিনি ইংরেজ ও মীর জাফরদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। পরিবারের মর্যাদা রক্ষা না করে তিনি নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে নবাবের পতন ত্বরান্বিত করেন।

    উদ্দীপকের বনশ্রীও পরিবারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নারী হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতা ও সম্পদের লোভে অন্ধ হয়ে যান। তিনি নিজের আপন ভাই সতীশকে স্নেহ-ভালোবাসার ছলনা করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় পৈতৃক ভিটা থেকে বিতাড়িত করেন। ঘষেটি বেগম যেমন নিজের ভাগিনেয় সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন, বনশ্রীও তেমনি আপন ভাই সতীশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। উভয়ের মধ্যেই আপনজনের ক্ষতিসাধন করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার চরম মানসিকতা বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়াও সতীশের মতো সিরাজের চারিত্রিক সরলতা তার পতনের জন্য দায়ী”— উক্তিটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যথার্থ।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের পতনের মূল কারণ হিসেবে বাইরের ইংরেজ শক্তি ও অভ্যন্তরীণ মীর জাফরচক্রের সম্মিলিত বিশ্বাসঘাতকতা সর্বজনবিদিত। কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার অতি-সরলতা, ভাবাবেগ ও দুর্বল নেতৃত্বও এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। সিরাজ বারবার মীর জাফরদের দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে এবং কোরআন ছুঁইয়ে বিশ্বাস করেছিলেন, অথচ তারা যে অবিচল বিশ্বাসঘাতক তা বুঝতে পেরেও কোনো চরম বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেননি। পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধক্ষেত্রে মীর জাফরের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অন্যায্য নির্দেশে যুদ্ধ থামিয়ে সিরাজ নিজের সরলতা ও অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

    উদ্দীপকের সতীশ যেমন বোনের ভালোবাসার মুখোশকে সত্য মনে করে সরল বিশ্বাসে ঠকে গিয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে, সিরাজউদ্দৌলাও তেমনি মীর জাফর ও দরবারের কুচক্রীদের বিনীত অভিনয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে নিজের সিংহাসন ও দেশের স্বাধীনতা হারিয়েছেন।

    অতএব, বিশ্বাসঘাতকতা সিরাজের পতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করলেও তাঁর চারিত্রিক অতি-সরলতা, ক্ষমাশীলতা ও সিদ্ধান্তহীনতাই শত্রুপক্ষকে চূড়ান্ত সাফল্যের সুযোগ করে দেয়। সুতরাং উক্তিটি অনস্বীকার্যভাবে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন