অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    হাইটেক শিল্প কি?

    (1)
  2. খ)

    আমদানি বিকল্প শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়ক - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের "ক" ও "খ" শিল্প দুটির ধরন ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "খ" ও "গ" শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন ভূমিকা পালন করে কি? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাইটেক শিল্প বলতে জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক এমন শিল্পকে বোঝায়, যাতে আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমদানি বিকল্প শিল্প হলো এমন ধরনের শিল্প, যার মাধ্যমে অতীতে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো এমন পণ্যসামগ্রী দেশেই উৎপাদন করা হয়।

    বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পজাত পণ্য আমদানি করতে দেশকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। দেশে আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠলে অভ্যন্তরীণ বাজারেই সেইসব পণ্যের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুসারে উদ্দীপকের 'ক' শিল্পটি হলো 'বৃহৎ শিল্প' এবং 'খ' শিল্পটি হলো 'ক্ষুদ্র শিল্প'।

    শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য (প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ) ৫০ কোটি টাকার অধিক এবং যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে বৃহৎ শিল্প বলা হয়। উদ্দীপকের 'ক' শিল্পে মূলধন ৫০ কোটির অধিক এবং শ্রমিক ৩০০ জনের অধিক হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বৃহৎ শিল্প।

    অন্যদিকে, উৎপাদনমুখী খাতের যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং প্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করেন, সেগুলোকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে। উদ্দীপকের 'খ' শিল্পে মূলধন ৭৫ লাখ থেকে ১৫ কোটি এবং শ্রমিকের সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের 'খ' শিল্পটি একটি ক্ষুদ্র শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের 'খ' (ক্ষুদ্র শিল্প) ও 'গ' (কুটির শিল্প) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

    উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যানুযায়ী 'খ' শিল্প হলো ক্ষুদ্র শিল্প এবং 'গ' শিল্প হলো কুটির শিল্প (যেখানে স্থায়ী মূলধন ১০ লাখ টাকার নিচে এবং সদস্য বা শ্রমিক সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫ জন)। উন্নয়নশীল ও শ্রমঘন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এ দুটি শিল্পের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণ: বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কম পুঁজিতে বিপুল পরিমাণ মানুষের, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
    ২. গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন: এ শিল্পগুলো স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে গড়ে ওঠে, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি স্বাবলম্বী হয় এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়ে দারিদ্র্য দূর হয়।
    ৩. সম্পদের সদ্ব্যবহার: দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র সঞ্চয় এবং স্থানীয় কাঁচামাল কার্যকরভাবে ব্যবহারের প্রধান মাধ্যম ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প।
    ৪. জাতীয় আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি: জামদানি, তাঁতবস্ত্র, মৃৎশিল্প, পাটজাত হস্তশিল্প ইত্যাদি দেশে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে।

    পরিশেষে বলা যায়, বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে মজবুত রাখতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন