বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
“ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলিকরুণ চোখে চেয়ে আছে সাঁঝের ঝরা ফুলগুলি।........................................................কাল হতে আর ফুটবে না হায়, লতার বুকে মঞ্জরীউঠছে পাতায় পাতায় কাহার করুণ নিশাস মর্মরী।গানের পাখি গ্যাছে উড়ে-শূন্য নীড়-কণ্ঠে আমার নাই সে আগের কথার ভিড়।”
- ক)(1)
‘উত্তরী’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“কহিল সে কাছে সরে আসি”-পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কবি এবং ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অন্তর্বেদনাকে এক সুতায় গাঁথা যায় কি?”-আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“কণ্ঠে আমার নাই সে আগের কথার ভিড়।”- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘উত্তরী’ শব্দের অর্থ চাদর বা উত্তরীয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আলোচ্য পঙ্ক্তিটিতে কবির কাব্যচর্চায় উদাসীনতা দেখে কবিভক্তের বিস্মিত ও ব্যাকুল হয়ে কবির নিকটবর্তী হওয়ার ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
প্রকৃতিতে বসন্তের শুভাগমন সত্ত্বেও কবি সুফিয়া কামাল কাব্যরচনায় সম্পূর্ণ বিমুখ ও আনমনা ছিলেন। কবির এই অদ্ভুত নিরাসক্তি লক্ষ করে কবিভক্ত সংশয় ও কৌতূহল নিয়ে কবির কাছে এগিয়ে এসে অনুযোগের সুরে বসন্তকে বরণ করে গান রচনার অনুরোধ জানান। ভক্তের এই অন্তরঙ্গ ও ব্যাকুল উপস্থিতি বোঝাতেই কবি চরণটি ব্যবহার করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের কবি এবং ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অন্তর্বেদনাকে একই সুতায় গাঁথা যায়।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতির রূপ-লাবণ্য ও বসন্তের সমারোহের মাঝেও কবির মনে কোনো সাড়া জাগেনি। প্রিয়জন তথা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকালমৃত্যুর তীব্র শোক কবিকে এক গভীর শূন্যতায় নিমজ্জিত করেছিল, যা তাঁকে সাহিত্য সৃষ্টি ও আনন্দের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, কবির অন্তরের গানের পাখি উড়ে গেছে এবং চারপাশের পরিবেশ বিষণ্নতায় ছেয়ে গেছে। প্রিয় হারানোর ব্যথা ও রিক্ততার কারণে কবির হৃদয়ের সুর নিভে গেছে, যার ফলে তাঁর কণ্ঠে আগের মতো কথার ভিড় বা কাব্যসৃষ্টির প্রাচুর্য নেই। উভয় কবির ভেতরেই স্বজন হারানোর বা প্রিয় বিচ্ছেদের নিঃসীম রিক্ততা বিদ্যমান। সুতরাং, ব্যক্তিগত গভীর শোক ও সৃষ্টিশীলতার স্থবিরতার দিক থেকে উভয় কবির অন্তর্বেদনা অভিন্ন সূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“কণ্ঠে আমার নাই সে আগের কথার ভিড়।”—উক্তিটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির গভীর শোকগ্রস্ত মনের কাব্যিক স্থবিরতা ও সৃষ্টিবিমুখতাকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তোলে।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বসন্ত ঋতু নানা বর্ণ ও গন্ধে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুললেও কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন উদাসীন ও মৌন। তাঁর প্রথম স্বামী ও সাহিত্য-সাধনার পরম প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর জীবন এক গভীর শূন্যতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রিয় হারানোর এই চরম ট্র্যাজেডি কবির অন্তরের সৃষ্টিশীলতাকে স্তব্ধ করে দেয়। ফলে বসন্তের বন্দনাগীতি রচনা করতে ভক্ত বারবার অনুরোধ করলেও কবির হৃদয় থেকে কোনো গান বা কবিতার বাণী উৎসারিত হয়নি।
উদ্দীপকের চরণেও ফুটে উঠেছে অন্তরের গীতলতা হারানোর হাহাকার। জীবনের চরম বিষাদ ও শূন্যতার কারণে কবির ভেতরে যে সৃষ্টিশীল অনুপ্রেরণা তা স্তব্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেখানে কথার প্রাচুর্য বা ছন্দের স্পন্দন মিলিয়ে গিয়ে এক নিস্তব্ধ নীরবতার সৃষ্টি হয়েছে।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মূল সুরও এই অন্তর্লীন নীরবতা ও রিক্ততা। কবি নিজেই বলেছেন যে রিক্ত বসন্ত তাঁকে উপহার দিয়েছে শূন্যতা, ফলে তিনি বসন্তকে বরন করে গান রচনা করতে পারছেন না। সুতরাং, অন্তরের গভীর শোকের কারণে সৃষ্টিশীল অনুপ্রেরণা হারিয়ে বাক্যহীন হয়ে পড়ার বাস্তবতাকে উক্তিটি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও