সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মুকুল একটি প্রত্যন্ত এলাকায় বাস করে। তাদের এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে মতের অমিল থাকলেও নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণে তারা সমষ্টিগতভাবে একতাবদ্ধ। পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। মানুষগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক জটিল জালের মতো ছড়িয়ে আছে।
- ক)(1)
সমাজের ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন কোনটি?
- খ)(2)
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল মুকুলের এলাকাটি কোনটিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্যয়টির সাথে সম্প্রদায়ের পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন হলো পরিবার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতে সমাজ কর্তৃক গৃহীত সেই সমস্ত উপায়, কৌশল বা প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে ব্যক্তির আচার-আচরণকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি, আইন ও মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়। এটি আনুষ্ঠানিক (যেমন: আইন, পুলিশ) বা অনানুষ্ঠানিক (যেমন: প্রথা, ধর্ম, নৈতিকতা) উভয় প্রকৃতির হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল মুকুলের এলাকাটি সমাজবিজ্ঞানের মৌল প্রত্যয় 'সমাজ' (Society)-কে নির্দেশ করেছে।
সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে, সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের জটিল জাল, যেখানে মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আবদ্ধ থাকে এবং তাদের মধ্যে ঐক্য ও ভিন্নতা উভয়ই বিদ্যমান থাকে। সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সদস্যদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও একতাবদ্ধতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুকুলদের এলাকায় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মতের অমিল বা ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তারা মৌলিক চাহিদা পূরণে একতাবদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক জটিল জালের মতো ছড়িয়ে আছে, যা সমাজের সংজ্ঞার সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সমাজ'। নিচে সমাজ ও সম্প্রদায়ের (Community) মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: সম্প্রদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা থাকা অপরিহার্য। অন্যদিকে, সমাজের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার প্রয়োজন নেই; সমগ্র বিশ্ব নিয়েও একটি সমাজ হতে পারে।
২. 'আমরা' বোধ (We-feeling): সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে তীব্র 'আমরা' বোধ বা একাত্মতা থাকে। কিন্তু সমাজে 'আমরা' বোধের তীব্রতা কম হতে পারে এবং সম্পর্কের পরিসর তুলনামূলকভাবে বৃহৎ ও বিমূর্ত।
৩. সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য: সমাজে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য (মতভেদ) উভয়ই বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সম্প্রদায়ে সদস্যদের মধ্যে জীবনযাত্রা ও স্বার্থের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের প্রাধান্য থাকে।
৪. প্রকৃতির ভিন্নতা: সমাজ মূলত সামাজিক সম্পর্কের একটি জটিল ও বিমূর্ত জাল। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায় হলো একটি সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী মূর্ত জনসমষ্টি।
৫. উদ্দেশ্য ও নির্ভরতা: সমাজের পরিধি অনেক ব্যাপক এবং এটি সামগ্রিক মানবিক সম্পর্কের প্রতিফলন। সম্প্রদায় সমাজের অভ্যন্তরেই গঠিত অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ও সুনির্দিষ্ট সমষ্টি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও