অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' দেশে ভিত্তি বছর ও বর্তমান বছরে দুটি ভোগ্যপণ্যের পরিমাপ ও দাম নিম্নরূপঃমুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য উক্ত দেশের সরকার সুদের হার বৃদ্ধি, উন্নয়ন ব্যয় হ্রাস, ভ্যাট ও শুল্ক হ্রাস করলেও তাৎক্ষণিকভাবে আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না।
ভোগ্য দ্রব্য | পরিমাণ | দাম (টাকা) |
| (কেজি/লিটার) | ভিত্তি বছর | বর্তমান বছর
চাল | ৩০ | ৪০ | ৬০
তেল | ৫ | ১০০ | ১২০
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে?
- খ)(2)
উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি ঘটাতে পারে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে 'X' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
সরকারি পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে ফলপ্রসূ হচ্ছে না কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে যখন সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক জোগানের চেয়ে বেশি হওয়ার ফলে দ্রব্যসামগ্রীর দামস্তর ক্রমাগত এবং দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ যেমন—কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি, মূলধনের সুদ ইত্যাদির ব্যয় বৃদ্ধি পেলে উৎপাদকের মোট উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে উৎপাদকরা তাদের মুনাফা বজায় রাখতে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পায় এবং বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর দামস্তর বৃদ্ধি পায়। উপকরণ ব্যয়ের এই বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতিকে ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push Inflation) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে ভিত্তি বছর ও বর্তমান বছরের মোট ব্যয়ের মাধ্যমে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) নির্ণয় করে মুদ্রাস্ফীতির হার বের করা হলো:
১. ভিত্তি বছরের মোট ব্যয় ():
টাকা।২. বর্তমান বছরের মোট ব্যয় ():
টাকা।ভোক্তা মূল্যসূচক ():
অতএব, 'X' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার:
মুদ্রাস্ফীতির হার
(অথবা, মূল্যবৃদ্ধির শতকরা হার )।সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে 'X' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৪১.১৮%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' দেশের সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক আর্থিক নীতি (সুদের হার বৃদ্ধি) এবং রাজস্ব নীতি (উন্নয়ন ব্যয় হ্রাস, ভ্যাট ও শুল্ক হ্রাস) গ্রহণ করেছে। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে বেশ কিছু অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে:
১. নীতির সময়গত ব্যবধান (Time Lag): আর্থিক ও রাজস্ব নীতি ঘোষণার সাথে সাথেই বাজারে তার প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয় না। সুদের হার বাড়ালে বিনিয়োগ ও ঋণের প্রবাহ কমতে এবং মানুষের ভোগব্যয় হ্রাস পেয়ে সামগ্রিক চাহিদা কমতে কয়েক মাস বা নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়।
২. সরবরাহ চেইনের ঘাটতি ও আমদানি নির্ভরতা: মুদ্রাস্ফীতি যদি জোগান স্বল্পতা বা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ঘটে, তবে অভ্যন্তরীণভাবে চাহিদা কমিয়ে তা তাৎক্ষণিকভাবে রোধ করা যায় না।
৩. মজুরি-মূল্য সর্পিল গতি (Wage-Price Spiral): দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার ফলে ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সহসা দাম কমাতে পারে না।
৪. ভোক্তাদের প্রত্যাশা ও মজুতদারি: ভবিষ্যতে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ভোক্তারা বর্তমান কেনাকাটা বাড়িয়ে দিলে কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুত করলে সরকারি উদ্যোগ তৎক্ষণাৎ ব্যর্থ হয়।
অতএব, সরকারি পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা ফলপ্রসূ হতে নির্দিষ্ট সময় বা সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকায় নীতিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আশানুরূপ ফল দিতে পারছে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও