অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

স্বাধীনতা লাভের আগে বিভিন্ন আমলে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল ও পশ্চাৎপদ রয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন অর্জিত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে এখন কোনো স্থবিরতা নেই, বরং অর্থনীতির প্রায় সর্বক্ষেত্রেই গতিশীলতা এসেছে।

  1. ক)

    অর্থনৈতিক মন্দা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কীরূপ?

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা কখন এবং কেন ছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের অর্থনীতিতে সামগ্রিক উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও আয় ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা বা সংকোচন দেখা দেওয়াকে অর্থনৈতিক মন্দা (Economic Recession) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি নদীমাতৃক ও উর্বর বদ্বীপ অঞ্চল।

    বাংলাদেশ ২০°৩৪´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর তিন দিকে ভারত, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার এবং দক্ষিণে সুবিশাল বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। দেশটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্য নদ-নদীর কারণে এখানকার ভূমি অত্যন্ত উর্বর এবং ভৌগোলিক অবস্থানটি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীনতা লাভের পূর্বে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক আমলে দীর্ঘমেয়াদী শাসন, শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি তীব্রভাবে পশ্চাৎপদ ছিল।

    ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই শতাব্দী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে তৎকালীন বাংলা কাঁচামালের সরবরাহকারী এবং ব্রিটিশ পণ্যের বাজারে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর দীর্ঘ ২৪ বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) চরম অর্থনৈতিক শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়। পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক সাহায্যের সিংহভাগ বরাদ্দ পেত পশ্চিম পাকিস্তান। এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্প-কারখানা ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এ সকল ঐতিহাসিক শোষণ ও বঞ্চনার ফলেই স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও পশ্চাৎপদ অবস্থায় ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি একটি গতিশীল, উন্নয়নমুখী ও ইতিবাচক কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। নিচে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. কৃষিতে গুণগত পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন: সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল বীজ, সার ও সেচ ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ ধান, মাছ ও শাকসবজি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

    ২. শিল্প ও রপ্তানি খাতের প্রসার: তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধ, চামড়া ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

    ৩. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা অর্জন এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ৪. স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি: গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার প্রসারের মাধ্যমে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

    ৫. রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ: প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে।

    ৬. কাঠামোগত পরিবর্তন ও স্থবিরতা দূরীকরণ: অর্থনীতিতে পূর্বে যে স্থবিরতা ছিল, তা দূর হয়ে কৃষিনির্ভরতা থেকে শিল্প ও সেবা খাতের অংশীদারিত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারা গতিশীল হয়েছে।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যানুযায়ী স্বাধীনতা-উত্তর দুর্বলতা কাটিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণগত রূপান্তর ও গতিশীলতা বাস্তবায়িত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন