সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
আসাদ বিয়ে করেছেন তিন মাস হলো। কিন্তু তিনি ভাবছেন বিয়ের সময় চুক্তিকৃত সব টাকা ও উপহার এখনো বাকি রয়েছে। তাই নাজমাকে প্রায়ই চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এতে ফল না পাওয়ায় নাজমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। বর্তমানে নির্যাতনের মাত্রা সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে।
- ক)(1)
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ কোন সালে পাশ হয়?
- খ)(2)
সামাজিক আইন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নাজমা কোন কোন আইনের মাধ্যমে সহায়তা পেতে পারেন? ব্যাখ্যা দাও ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আসাদের মতো ব্যক্তিদের সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধের উদ্দেশ্যে এ আইনটি প্রণীত হয়েছে— মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন বা অধ্যাদেশ ১৯৯০ সালে পাস হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের মানুষের নিরাপত্তা, কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং সামাজিক বিভিন্ন কুপ্রথা ও অসঙ্গতি দূরীকরণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত বিধিবিধান বা নিয়মাবলিকে সামাজিক আইন বলে। সামাজিক আইন দুর্বল ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নাজমা 'যৌতুক নিরোধ আইন' (১৯৮০ বা ২০১৮) এবং 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)'-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেতে পারেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিয়ের সময় চুক্তিকৃত টাকা ও উপহার আদায়ের জন্য আসাদ তার স্ত্রী নাজমাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করছেন, যা স্পষ্টত যৌতুকের দাবি এবং পারিবারিক নির্যাতন। বাংলাদেশের প্রচলিত 'যৌতুক নিরোধ আইন' অনুযায়ী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করা বা গ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া, যৌতুকের দাবিতে বা অন্য কোনো কারণে নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হলে তা 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)'-এর ১১ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। অতএব, নাজমা এই আইনগুলোর আশ্রয় নিয়ে আসাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রতিকার ও আইনি সহায়তা পেতে পারেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আসাদের মতো ব্যক্তিদের সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধের উদ্দেশ্যেই 'যৌতুক নিরোধ আইন' এবং 'পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন' প্রণীত হয়েছে—উক্তিটি যথার্থ।
যৌতুক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। সমাজে একশ্রেণীর লোভী পুরুষ বিয়ের পর নারীর পরিবারের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ ও উপহার দাবি করে এবং তা না পেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। আসাদের এহেন আচরণ সমাজে নারীর মর্যাদা ও জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।
এ ধরনের গর্হিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে নারীদের রক্ষা করতে রাষ্ট্র ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন (পরবর্তীতে যুগোপযোগী করে ২০১৮ সালে নতুন আইন) এবং ২০১০ সালে 'পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন' প্রণয়ন করে। এসব আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো যৌতুকের দাবিদার ও নির্যাতনকারীদের শাস্তি প্রদান করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই বলা যায়, আসাদের মতো অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের অপতৎপরতা দমন ও নারীর সুরক্ষার লক্ষ্যেই উল্লিখিত আইনসমূহ প্রণীত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও