ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
'Z' লি. কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জায়েফ যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধস্তনদের সাথে পরামর্শ করেন। অন্যদিকে জনাব আরিফ তার প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধীনস্থদের মতামতকে গুরুত্ব দেন না। তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেন।
- ক)(1)
দূরদর্শিতা কী?
- খ)(2)
কর্মীকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জনাব জায়েফ কোন ধরনের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছেন?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে জনাব আরিফ এর নেতৃত্বের ধরনটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তা আগে থেকেই সঠিকভাবে অনুমান বা উপলব্ধি করার ক্ষমতাকে দূরদর্শিতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে নেতৃত্ব শৈলীতে উৎপাদন বা কাজের চেয়ে কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা, মানবিক সম্পর্ক এবং তাদের কল্যাণ ও সন্তুষ্টিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাকে কর্মীকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বলে।
এই ধরনের নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা করেন, তাদের সমস্যা সমাধান করেন এবং কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগী হন। ফলে কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ, মনোবল ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব জায়েফ 'গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব' (Democratic Leadership) বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব অনুসরণ করেছেন।
যে নেতৃত্বে নেতা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অধস্তনদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এই নেতৃত্ব শৈলীতে কর্মীদের মতামত ও চিন্তাভাবনাকে সম্মান জানানো হয়, যার ফলে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'Z' লি. কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জায়েফ যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধস্তনদের সাথে পরামর্শ করেন। অধস্তনদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই রীতিটি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে। তাই জনাব জায়েফ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব অনুসরণ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে জনাব আরিফের অনুসৃত স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কোনোভাবেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না, বরং তা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর।
যে নেতৃত্বে নেতা নিজে একাই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, অধস্তনদের মতামতকে কোনো গুরুত্ব দেন না এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কাজ আদায় করার চেষ্টা করেন, তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Autocratic Leadership) বলে।
উদ্দীপকে জনাব আরিফ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধীনস্থদের মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেন। এটি স্পষ্টতই একটি স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব ব্যবস্থা।
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব সাময়িকভাবে বা জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু দ্রুত ফলাফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। ভীতিপ্রদর্শনের কারণে কর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে, কর্মী ঘূর্ণায়মানতা বৃদ্ধি পায় এবং দক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে। অধস্তনদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়।
অতএব, দীর্ঘমেয়াদি সফলতা ও স্থিতিশীলতার জন্য জনাব আরিফের নেতৃত্বের ধরনটি মোটেও কার্যকর নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও