যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো ম্যাচ দেখার পর রানা তার বন্ধু সুমনকে বললো, “বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলাই ভালো মানের।” উত্তরে সুমন বললো, “আমিও এ পর্যন্ত যত কাক দেখেছি কালো। তাই বলা যায়, সব কাকই কালো।”

  1. ক)

    অপ্রকৃত আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    আরোহমূলক লম্ফ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রানার বক্তব্যে কোন ধরনের আরোহকে নির্দেশ করে?

    (3)
  4. ঘ)

    সুমনের বক্তব্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তার সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য আরোহমূলক লম্ফ বা উল্লম্ফন অনুপস্থিত থাকে, তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা থেকে অজানায়, দৃষ্ট থেকে অদৃ্ষ্টে কিংবা বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে আরোহমূলক লম্ফ বলে। আরোহমূলক লম্ফ হলো আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য বা প্রাণ। এর মাধ্যমেই কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনার প্রত্যক্ষলব্ধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রানার বক্তব্যে অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্গত 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (বা নিখুঁত আরোহ)-কে নির্দেশ করে।

    যে আরোহে কোনো সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্যপদের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্তকে পর্যবেক্ষণ বা গণনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রানা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো ম্যাচই পর্যবেক্ষণ বা প্রত্যক্ষ করেছে। অর্থাৎ সে কোনো ম্যাচ বাদ না রেখে প্রতিটি দৃষ্টান্ত গণনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, “বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলাই ভালো মানের।” এখানে জানা থেকে অজানায় পদার্পণের কোনো আরোহমূলক লম্ফ ঘটেনি। প্রতিটি দৃষ্টান্তে বিদ্যমান গুণের ভিত্তিতে সার্বিক বাক্যটি গঠিত হওয়ায় এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুমনের বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকাশ পেয়েছে। নিচে সুমনের বক্তব্যে প্রকাশিত অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যকার পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:

    ১. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল অবাধ বা অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত টানা হয়, এতে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয় না।

    ২. অভিজ্ঞতার স্বরূপ: বৈজ্ঞানিক আরোহে নিশ্চিত ও সুশৃঙ্খল অভিজ্ঞতার সাহায্য নেওয়া হয়। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহে শুধুমাত্র এ পর্যন্ত প্রাপ্ত অভিজ্ঞতায় কোনো বিপরীত দৃষ্টান্ত না পাওয়ার ওপর নির্ভর করা হয় (যেমন: কালো কাক ছাড়া অন্য রঙের কাক না দেখা)।

    ৩. সিদ্ধান্ত নিশ্চিততা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত এবং সংশয়াতীত। পক্ষান্তরে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য; একটি বিপরীত দৃষ্টান্ত পাওয়া গেলেই এর সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

    ৪. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ: বৈজ্ঞানিক আরোহে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয় পদ্ধতিরই আশ্রয় নেওয়া হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল সাধারণ নিরীক্ষণের ওপর নির্ভর করা হয়, কোনো কৃত্রিম পরীক্ষণ করা হয় না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন