জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে জীবেরা পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য ক্রমাগত ও অত্যন্ত ধীর গতিসম্পন্ন দৈহিক পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে নতুন জীবের সৃষ্টি করেছে। এর সপক্ষে বিজ্ঞানীরা অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। ডারউইনের মতে "পরিবৃত্তিই নতুন প্রজাতি সৃষ্টির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল"।
- ক)(1)
লিথাল জিন কী?
- খ)(2)
পলিজেনিক ইনহেরিটেন্স বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনের সপক্ষে 'ভূপতাত্ত্বিক প্রমাণ' ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ লাইনটির বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটে, সেগুলোকে লিথাল জিন (Lethal gene) বা মারক জিন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন দুই বা ততোধিক জোড়া নন-অ্যালিলিক জিন একত্রিতভাবে কোনো জীবের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য (quantitative trait) নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সেই ধরনের বংশগতিকে পলিজেনিক ইনহেরিটেন্স (Polygenic inheritance) বলে।
এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে ফিনোটাইপগুলো বিচ্ছিন্ন না হয়ে ধারাবাহিক পরিবর্তন (continuous variation) প্রদর্শন করে। যেমন— মানুষের গায়ের রঙ, উচ্চতা, ওজন ইত্যাদি পলিজেনিক ইনহেরিটেন্সের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনটি হলো 'জৈব অভিব্যক্তি' বা বিবর্তন। বিবর্তনের সপক্ষে অন্যতম অকাট্য প্রমাণ হলো ভূপতাত্ত্বিক প্রমাণ বা জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ (Palaeontological evidence)।
ভূপতাত্ত্বিক স্তর এবং সেখানে সংরক্ষিত জীবাশ্ম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:
১. শিলার স্তরবিন্যাস ও সময়কাল: ভূ-ত্বকের বিভিন্ন পাললিক শিলার স্তর এক দিনে সৃষ্টি হয়নি; স্তরের গভীরতা যত বেশি, তা তত প্রাচীন। বিভিন্ন স্তরে প্রাপ্ত জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রাচীন স্তরে তুলনামূলক সরল ও আদিম প্রকৃতির জীবের জীবাশ্ম এবং ওপরের স্তরে জটিল ও আধুনিক জীবের জীবাশ্ম বিদ্যমান।
২. সংযোগকারী সূত্র (Connecting links): ভূপতাত্ত্বিক বিভিন্ন স্তরে এমন কিছু জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে যাতে দুটি ভিন্ন ট্যাক্সনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যেমন— 'আর্কিওপটেরিক্স' (Archaeopteryx)-এর জীবাশ্মে সরীসৃপ (দাঁতযুক্ত চোয়াল, নখরযুক্ত আঙুল, দীর্ঘ লেজ) ও পাখি (পালকযুক্ত ডানা, চঞ্চু) উভয়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সরীসৃপ থেকেই পাখির উৎপত্তি হয়েছে।
৩. ধারাবাহিক জীবাশ্ম ইতিহাস: ঘোড়া ও হাতির মতো প্রাণীদের ক্ষেত্রে আদিম পূর্বপুরুষ থেকে শুরু করে আধুনিক রূপ পর্যন্ত ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রমাণ পাললিক শিলায় সংরক্ষিত জীবাশ্ম থেকে সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায় (যেমন— ইওহিপাস থেকে আজকের ইকুয়াস)।সুতরাং, শিলাস্তরে সংরক্ষিত প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ বা ছাপ জৈব অভিব্যক্তির বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বহন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি হলো: "পরিবৃত্তিই নতুন প্রজাতি সৃষ্টির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল"। উক্তিটি ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের আলোকে সম্পূর্ণ তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
ডারউইনের মতে, কোনো জীবের দুটি সন্তান কখনোই হুবহু একরকম হয় না। একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে রূপগত, শারীরবৃত্তীয় ও জিনগত যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পার্থক্য বা বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে পরিবৃত্তি (Variation) বলে। ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী এই উক্তিটির যথার্থতা নিম্নরূপ:
১. পরিবেশের সাথে অভিযোজন: পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য জীবকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। পরিবৃত্তির ফলে কিছু কিছু জীবের দেহে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, যা তাদেরকে পরিবেশের সাথে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
২. যোগ্যতমের উদবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন: যেসব পরিবৃত্তি পরিবেশের সাথে অধিকতর উপযোগী বা অনুকূল, প্রকৃতি সেই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবদের বেছে নেয় (প্রাকৃতিক নির্বাচন) এবং তারা অধিক সংখ্যায় বংশবৃদ্ধি করে টিকে থাকে। প্রতিকূল পরিবৃত্তিসম্পন্ন জীবেরা কালের পরিক্রমায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৩. পরিবৃত্তির বংশানুসরণ: অনুকূল পরিবৃত্তিগুলো পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। বহু প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলো পুঞ্জীভূত হতে হতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন বংশধরেরা তাদের আদি পূর্বপুরুষ থেকে স্পষ্ট পৃথক হয়ে যায়।
৪. নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: ক্ষুদ্র পুঞ্জীভূত ধারাবাহিক পরিবৃত্তির চরম রূপই হলো নতুন প্রজাতির সৃষ্টি। সুতরাং পরিবৃত্তি না থাকলে জীবের মধ্যে বৈচিত্র্য আসত না, প্রাকৃতিক নির্বাচনেরও কোনো উপাদান থাকত না এবং নতুন কোনো প্রজাতিও সৃষ্টি হতো না।অতএব, বিবর্তন প্রক্রিয়ায় পরিবৃত্তি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে বিধায় পরিবৃত্তিকে নতুন প্রজাতি সৃষ্টির কাঁচামাল হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণরূপে যুক্তিসংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও