জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সাইব্রিড কী?

    (1)
  2. খ)

    বায়োম বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের A সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃত্রিমভাবে A ও B এর মিলন ঘটিয়ে কীভাবে ফসলের গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের মিলনে যখন শুধু একটির নিউক্লিয়াস থাকে কিন্তু উভয়ের সাইটোপ্লাজম মিশ্রিত হয়, তখন তাকে সাইব্রিড (Cybrid বা Cytoplasmic hybrid) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই ধরনের জলবায়ু, মাটি এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল দ্বারা গঠিত এক একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চল বা বাস্তুতান্ত্রিক একককে বায়োম (Biome) বলে।
    উদাহরণস্বরূপ— তুন্দ্রা বায়োম, তৈগা বায়োম, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি ইত্যাদি। প্রতিটি বায়োমের নিজস্ব স্বকীয় জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত 'A' হলো পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু। নিচে পুংগ্যামেট সৃষ্টির প্রক্রিয়া (পুং-গ্যামেটোফাইটের বিকাশ) বর্ণনা করা হলো:

    ১. পরাগরেণু পুং-গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। এটি মায়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড কোষ।
    ২. পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে একটি বড় নালিকা নিউক্লিয়াস (Tube nucleus) এবং একটি অপেক্ষাকৃত ছোট জনন নিউক্লিয়াস (Generative nucleus) গঠন করে।
    ৩. এ অবস্থায় পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হলে পরাগায়ন ঘটে এবং পরাগরেণু থেকে একটি পরাগনালিকা (Pollen tube) নির্গত হয়ে গর্ভদণ্ডের মধ্য দিয়ে বৃদ্ধি পায়। নালিকা নিউক্লিয়াসটি নালিকার অগ্রভাগে অবস্থান করে।
    ৪. এরপর জনন নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি হ্যাপ্লয়েড পুংগ্যামেট (A) সৃষ্টি করে।
    এভাবেই পরাগনালিকার মধ্যে পুংগ্যামেট (A) সৃষ্টি সম্পন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' হলো পুংগ্যামেট এবং 'B' হলো ডিম্বাণু। কৃত্রিমভাবে A ও B এর মিলন ঘটানোকে কৃত্রিম প্রজনন বা কৃত্রিম পরাগায়ন (Artificial Hybridization) বলা হয়। ফসলের গুণগত মান উন্নয়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:

    ১. কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ: কাঙ্ক্ষিত দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন জাতের মধ্যে কৃত্রিম পরাগায়ন ঘটিয়ে পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলন ঘটিয়ে একটি জাতের মধ্যে দুটি জাতের সুবিধাজনক গুণাবলি (যেমন—উচ্চ ফলনশীলতা ও খরা সহনশীলতা) একত্রিত করা যায়।

    ২. রোগ ও পোকা-মাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন: রোগ-সংবেদনশীল কিন্তু উচ্চ ফলনশীল জাতের ডিম্বাণুর সাথে রোগ প্রতিরোধী জাতের পরাগরেণু থেকে সৃষ্ট পুংগ্যামেটের কৃত্রিম মিলন ঘটিয়ে রোগ ও কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী উন্নত সংকর জাত উদ্ভাবন সম্ভব।

    ৩. প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতা: বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ইত্যাদি প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করতে পারে এমন জাত সৃষ্টিতে এই কৃত্রিম সংকরায়ন সফলভাবে ব্যবহৃত হয়।

    ৪. পুষ্টিমানের উন্নয়ন: শস্যের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য (যেমন—প্রোটিন বা ভিটামিনের মাত্রা বৃদ্ধি) উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন জাতের সাথে ফলনশীল জাতের কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে 'বায়োফর্টিফাইড' উন্নত জাত তৈরি করা সম্ভব।

    সুতরাং, কৃত্রিম প্রজনন বা কৃত্রিমভাবে A ও B এর মিলনের মাধ্যমেই কৃষি ক্ষেত্রে ফসলের গুণগত ও পরিমাণগত উভয় দিক থেকেই বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন