বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নারিশা গ্রামের একটা ভাঙ্গা রাস্তা মেরামতের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট ধর্না দিতে দিতে গ্রামের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামেরই ছেলে বুলবুল একদিন গ্রামের ছেলেদের নিয়ে খাল থেকে মাটি তুলে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করে দিল। চেয়ারম্যান এসে ধমকের সুরে বুলবুলকে বললেন, “তুমি কার মাটি কার রাস্তায় ফেলছো? অনুমতি নিয়েছো? খালের পাড় ভেঙ্গে জমিজমা ঘরবাড়ি নষ্ট হবে না? এমন পাপের কাজে ছেলেদের জড়ালে কেন, ওদের মা-বাবার অনুমতি নিয়েছো? শিশুশ্রম নিষিদ্ধ জানো না? ভুল স্বীকার করে এ কাজে বিরত না হলে তোমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে এসেছো?”
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসে কাকে ‘একরত্তি মাইয়া' বলা হয়েছে?
- খ)(2)
‘নাফরমানি করিও না। খোদার উপর তোয়াক্কল রাখ।' ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু' উপন্যাসের তুল্য ঘটনার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
‘উদ্দীপকের বুলবুলের কার্যক্রম আইন বিরোধী নয়, কর্তৃত্ববাদীদের জন্য অশনি সংকেত।'—‘লালসালু' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসে জমিলাকে ‘একরত্তি মাইয়া' বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে মানুষের বিপদাপদে বা অভাব-অনটনে ধর্মের দোহাই দিয়ে সবকিছু খোদার ওপর সঁপে দিয়ে অদৃষ্টবাদী হয়ে থাকার মানসিকতা বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে যখন ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল এবং শস্যহানির শঙ্কায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ধর্মব্যবসায়ী মজিদ তাদের প্রতি এই নির্দেশ দেয়। মানুষের বিপন্ন ও অসহায় মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিজের আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব অটুট রাখতে মজিদ সাধারণ মানুষকে অভিযোগ না করে খোদার ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল রাখার উপদেশ দিয়ে শান্ত ও অনুগত রাখতে চায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু' উপন্যাসে আউয়ালপুরের পীরের আগমন এবং তার প্রতি সাধারণ মানুষের আনুগত্য দেখে মজিদের ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ও কর্তৃত্ব খর্বের আশঙ্কার ঘটনাটি তুলনীয়।
উপন্যাসে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী আউয়ালপুর গ্রামে একজন নতুন পীরের আগমন ঘটলে মহব্বতনগর গ্রামের বহু মানুষ সেখানে যাওয়া-আসা শুরু করে। এতে মজিদের একক আধিপত্য ও মাজারভিত্তিক কর্তৃত্বে আঘাত লাগে। ক্ষুব্ধ মজিদ খালেক ব্যাপারীকে দিয়ে সেই পীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্ররোচিত করে এবং মাতব্বরির মাধ্যমে নিজ কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একইভাবে তাহের-কাদেরের বাবার গৃহত্যাগের ঘটনা বা জমিলার অবাধ্যতাতেও মজিদ নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অবহেলিত রাস্তাটি বুলবুল যুবকদের নিয়ে মেরামত করতে গেলে চেয়ারম্যান জনহিতকর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ না জানিয়ে উল্টো নিজের ক্ষমতা খর্বের ভয়ে ধমক দেন এবং আইনের ভয় দেখান। উপন্যাসে মজিদ যেমন নিজের কর্তৃত্বের বাইরে কোনো স্বাধীন উদ্যোগ বা শক্তি সহ্য করতে পারত না, চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়াও ঠিক তেমনি ক্ষমতা রক্ষার আগ্রাসী রূপ বহন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘উদ্দীপকের বুলবুলের কার্যক্রম আইন বিরোধী নয়, কর্তৃত্ববাদীদের জন্য অশনি সংকেত'—মন্তব্যটি ‘লালসালু' উপন্যাসের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সমাজবাস্তবতার আলোকে যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ এবং সমাজের মাতব্বর খালেক ব্যাপারী যৌথভাবে ধর্মের মুখোশ ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো গ্রামের ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল। তাদের এই আধিপত্য বজায় রাখার মূল শর্ত ছিল সাধারণ মানুষের অন্ধ আনুগত্য এবং প্রশ্নহীন আনুগত্য। কিন্তু যখনই কেউ সেই রীতির বাইরে নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বা প্রশ্ন তোলার সাহস দেখিয়েছে—যেমন জমিলা মজিদের আধ্যাত্মিক ভণ্ডামিকে ভয় না পেয়ে নিজের মতো আচরণ করেছে—তখনই মজিদের ভিত কেঁপে উঠেছে। কর্তৃত্ববাদীরা সবসময় যেকোনো স্বাধীন, গঠনমূলক ও স্বতঃস্ফূর্ত গণউদ্যোগকে তাদের একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রতি হুমকি মনে করে।
উদ্দীপকে বুলবুল কোনো অকল্যাণকর কাজ করেনি; বরং জনপ্রতিনিধির অবহেলায় অচল হয়ে পড়া রাস্তাটি নিঃস্বার্থভাবে মেরামত করে সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে। চেয়ারম্যানের কাছে এটি অসহ্য লেগেছে কারণ বুলবুলের এ কাজ জনগণের কাছে চেয়ারম্যানের অযোগ্যতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে স্পষ্ট করে দেয় এবং তাঁর একনায়কসুলভ কর্তৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। চেয়ারম্যান আইন ও বিভিন্ন অপযুক্তির আড়ালে মূলত নিজের কর্তৃত্ব হারানোর ভয়কেই প্রকাশ করেছেন।
সুতরাং দেখা যায়, বুলবুলের সৎ উদ্যোগ কোনো অপরাধ নয়; বরং তা কর্তৃত্ববাদী ও শোষণমূলক ক্ষমতার ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নির্ভীক পদক্ষেপ বা অশনি সংকেত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও