ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আরিফ ABC লি. কোম্পানির ব্যবস্থাপক। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে আসেন ও বিকাল ৫টায় অফিস থেকে চলে যান। তিনি নিজের কাজে খুব দক্ষ ও অভিজ্ঞ । প্রতিষ্ঠানের কেউ ঝামেলায় পতিত হলে মি. আরিফ খুব দ্রুত তাদের সঠিক পরামর্শ দেন। সম্প্রতি জনাব আরিফ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় আত্মীয়-স্বজনদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। যা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের প্রতিবন্ধক।
- ক)(1)
F. W. Taylor কে?
- খ)(2)
জোড়া মই শিকল নীতি বলতে কী বোঝ? ব্যাখা কর।
- গ)(3)
মি. আরিফ ব্যবস্থাপনার কোন নীতি লংঘন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. আরিফের কাজগুলো আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুণাবলির ভিত্তিতে মূল্যায়ন কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এফ. ডব্লিউ. টেলর (Frederick Winslow Taylor) হলেন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জোড়া-মই শিকল নীতি (Scalar Chain Principle) বলতে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সর্বনিম্ন স্তর পর্যন্ত কর্তৃত্ব, দায়িত্ব ও যোগাযোগের একটি অবিচ্ছিন্ন ও শৃঙ্খলিত প্রবাহকে বোঝায়।
হেনরি ফেয়ল প্রদত্ত এই নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে আদেশ বা তথ্যের আদান-প্রদান সবসময় পদমর্যাদা অনুসারে ধারাবাহিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ওপর থেকে নিচে বা নিচ থেকে ওপরে প্রবাহিত হওয়া উচিত। এতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয় এবং কোনো স্তর বা ব্যক্তিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. আরিফ ব্যবস্থাপনার 'সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ' নীতিটি লঙ্ঘন করেছেন।
হেনরি ফেয়লের প্রদত্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ। এ নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক বা সাধারণ স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যবস্থাপক ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আবেগকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারেন না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আরিফ নিজের কাজে দক্ষ হলেও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় নিজের আত্মীয়-স্বজনদের অযাচিত প্রাধান্য দিচ্ছেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বজনপ্রীতি করে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় করে দেখায় তিনি 'সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ' নীতিটি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. আরিফের মধ্যে আদর্শ ব্যবস্থাপকের কিছু ইতিবাচক গুণাবলি থাকলেও নীতিগত ও নৈতিক দুর্বলতা রয়েছে, যা আদর্শ ব্যবস্থাপকের পরিপন্থী।
একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, বিচক্ষণতা, ন্যায়পরায়ণতা, পক্ষপাতহীনতা ও উচ্চ নৈতিক মান থাকা আবশ্যক। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যবস্থাপককে অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ পরিচালনা করতে হয়।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়:
১. ইতিবাচক গুণাবলি: মি. আরিফ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিয়মানুযায়ী অফিস করেন, যা তার সময়ানুবর্তিতার পরিচায়ক। তিনি নিজের কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ এবং অধীনস্থদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সঠিক পরামর্শ দেন, যা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রমাণ দেয়।
২. নেতিবাচক গুণাবলি: তিনি সম্প্রতি ব্যবস্থাপনায় আত্মীয়-স্বজনদের অন্যায্য সুযোগ বা প্রাধান্য দিচ্ছেন, যা স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক আচরণের শামিল। এর ফলে তার নিরপেক্ষতা, দূরদর্শিতা ও ন্যায়পরায়ণতার অভাব প্রকাশ পেয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করেছে।অতএব বলা যায়, ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতা থাকা সত্ত্বেও স্বজনপ্রীতি ও ন্যায়পরায়ণতার অভাবে মি. আরিফ একজন পূর্ণাঙ্গ আদর্শ ব্যবস্থাপক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও