জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপক :(১) অসম্পূর্ণ প্রকটতা(২) সমপ্রকটতা(৩) লিথাল জিন
- ক)(1)
এপিস্ট্যাসিস কী?
- খ)(2)
বর্ণান্ধতাকে লিঙ্গজড়িত জটিলতা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
১নং উদ্দীপকের জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত সকল উদ্দীপক মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম বিশ্লেষণপূর্বক মন্তব্য কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি জিনের উপস্থিতি যখন অপর একটি নন-অ্যালিলিক জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস (Epistasis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণকারী সেক্স ক্রোমোজোমে (প্রধানত X-ক্রোমোজোমে) অবস্থিত জিনের মিউটেশনের কারণে যে বংশগত ত্রুটি বা বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়, তাকে লিঙ্গজড়িত বৈশিষ্ট্য বা সেক্স-লিংকড ডিসঅর্ডার বলে।
মানুষের বর্ণান্ধতার (রঙ চিনতে না পারা) জিনটি X ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি প্রচ্ছন্ন জিন। Y ক্রোমোজোমে এর কোনো সমজাতীয় অ্যালিল থাকে না। ফলে বংশপরম্পরায় এটি সেক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমেই পিতা-মাতা থেকে সন্তানে সঞ্চারিত হয়। এ কারণে বর্ণান্ধতাকে লিঙ্গজড়িত জটিলতা বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের (১) নং-এ উল্লিখিত বিষয় হলো অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance)।
যখন কোনো একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের হোমোজাইগাস জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হয় এবং এফ-১ জনুর হেটারোজাইগাস অবস্থায় কোনো অ্যালিলই অপর অ্যালিলের ওপর পূর্ণ প্রকটতা প্রদর্শন করতে পারে না, বরং উভয়ের মাঝামাঝি এক মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা (সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে):
ধরি, লাল ফুলের জন্য দায়ী অ্যালিল = R এবং সাদা ফুলের জন্য দায়ী অ্যালিল = r।
পিতৃপুরুষ (P1): লাল ফুল (RR) × সাদা ফুল (rr)
গ্যামিট: R এবং r
এফ-১ জনু (F1): Rr (সবগুলো গোলাপি ফুল)
এফ-১ জনুর দুটি উদ্ভিদের মধ্যে স্ব-পরাগায়ন ঘটালে (Rr × Rr):
গ্যামিট: R, r এবং R, r
এফ-২ জনু (F2):- RR (হোমোজাইগাস) = ১টি লাল ফুল
- Rr (হেটারোজাইগাস) = ২টি গোলাপি ফুল
- rr (হোমোজাইগাস) = ১টি সাদা ফুল
সুতরাং, ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায় লাল : গোলাপি : সাদা = ১ : ২ : ১। এটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের সাধারণ ৩ : ১ অনুপাতের জিনতাত্ত্বিক ব্যতিক্রম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো হলো— (১) অসম্পূর্ণ প্রকটতা, (২) সমপ্রকটতা এবং (৩) লিথাল জিন। এগুলোর সবই মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
মেন্ডেলের প্রথম সূত্র অনুসারে একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের জীবের সংকরায়ণে এফ-২ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ হওয়ার কথা। কিন্তু উদ্দীপকের বিষয়গুলোতে এ অনুপাত পরিবর্তিত হয়:
১. অসম্পূর্ণ প্রকটতা: এখানে হেটারোজাইগাস অবস্থায় কোনো বৈশিষ্ট্যই সম্পূর্ণরূপে প্রকট না হয়ে মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। ফলে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ১:২:১ হয় (যেমন: সন্ধ্যামালতী ফুলের বর্ণ)।
২. সমপ্রকটতা: হেটারোজাইগাস অবস্থায় যখন পিতা ও মাতা উভয়ের অ্যালিলই সমানভাবে ও সমভাবে প্রকাশ পায়, তখন তাকে সমপ্রকটতা বলে। এর ফলেও F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ এর বদলে ১:২:১ হয় (যেমন: আন্দালুসিয়ান মুরগির কালো ও সাদা পালকের মিশ্রণে নীলচে পালক)।
৩. লিথাল জিন: যে জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে জীবের মৃত্যু ঘটে, তাকে লিথাল জিন বা মারাত্মক জিন বলে। লিথাল জিনের প্রভাবে হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন বা প্রকট সন্তান ভ্রূণাবস্থাতেই মারা যায়, যার ফলে F2 জনুর স্বাভাবিক ৩:১ অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ২:১ এ রূপ নেয় (যেমন: হলুদ ইঁদুরের ক্ষেত্রে)।
অতএব, দেখা যাচ্ছে যে উদ্দীপকের তিনটি ঘটনাই মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের স্বাভাবিক ৩:১ ফিনোটাইপিক অনুপাতকে যথাক্রমে ১:২:১ ও ২:১ এ পরিবর্তন করে। সুতরাং, উল্লিখিত সকল উদ্দীপকই মেন্ডেলের সূত্রের সুনির্দিষ্ট ব্যতিক্রম— এ মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও