ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে পাম্পের সাহায্যে সেচ এবং যন্ত্রের সাহায্যে ফসল মাড়াই সম্ভব হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের সুবিধার কারণে অল্প সময়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। কাজেই মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন।
- ক)(1)
গৌরবময় বিপ্লব কখন হয়?
- খ)(2)
ইংল্যান্ডকে পৃথিবীর কর্মশালা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিশেষ পরিবর্তনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উত্ত ঘটনা সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গৌরবময় বিপ্লব ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্প বিপ্লবের সূতিকাগার হিসেবে ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার, কলকারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। সেখানে কয়লা ও লোহার প্রাচুর্য, উন্নত যোগাযোগ ও বাণিজ্যের কারণে বিপুল পরিমাণ শিল্পপণ্য উৎপাদিত হতো এবং তা সারা বিশ্বের বাজারে রপ্তানি হতো। ইংল্যান্ডের বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা ও কারখানানির্ভর অর্থনীতির কারণে তাকে 'পৃথিবীর কর্মশালা' (Workshop of the World) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে পাঠ্যপুস্তকের 'শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution)-এর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে, তা-ই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। উদ্দীপকে আধুনিক যন্ত্রপাতি, পাম্পের সাহায্যে সেচ ও ফসল মাড়াই এবং উন্নত পরিবহনের ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে বেশি কাজ ও মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের শিল্প বিপ্লবের মূলেও ছিল বাষ্পীয় ইঞ্জিন, বস্ত্রকলের যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যা কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছিল। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিভিত্তিক রূপান্তরটি সরাসরি শিল্প বিপ্লবকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি হলো 'শিল্প বিপ্লব', যা সারা বিশ্বে বাস্তবিক অর্থেই সুদূরপ্রসারী ও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। নিম্নে এর যথার্থতা নিরূপণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক প্রভাব: হস্তচালিত কুটির শিল্পের পরিবর্তে বৃহদায়তন যান্ত্রিক কারখানা গড়ে ওঠে, যার ফলে পণ্যের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে।
২. সামাজিক পরিবর্তন: শিল্প বিপ্লবের ফলে দ্রুত নগরায়ণ ঘটে এবং মানুষ কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত হয়। সমাজে ধনিক পুঁজিপতি ও শ্রমিক—এই দুটি প্রধান শ্রেণির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ নিয়ে নানামুখী আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে সমাজতান্ত্রিক দর্শনের জন্ম দেয়।
৩. বিজ্ঞান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশ: বাষ্পীয় ইঞ্জিন, রেল যোগাযোগ, স্টিমার ইত্যাদির আবিষ্কারের ফলে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটে।
৪. রাজনৈতিক ও সাম্রাজ্যবাদী বিস্তার: শিল্পোন্নত দেশগুলো সস্তা কাঁচামাল সংগ্রহ এবং তৈরি পণ্য বিক্রির জন্য এশিয়া ও আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোতে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠায় তৎপর হয়ে ওঠে, যা বিশ্বরাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দেয়।
অতএব, শিল্প বিপ্লব শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও