ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

কর্ণফুলি কোম্পানি লি. ৪৫ কোটি টাকা দামের একটি জাহাজ 'X', 'Y'. Z তিনটা বিমা কোম্পানির নিকট সমান মূল্যে বিমা করে। জাহাজটি অন্য একটি জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মেরামত করতে ৯ কোটি টাকা খরচ হয়। কর্ণফুলি কোম্পানি লি. 'X' বিমা কোম্পানির নিকট থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করে। পরবর্তীতে 'X' বিমা কোম্পানি 'Y' ও বিমা কোম্পানির পনির নিকট থেকে আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ দাবি করে।

  1. ক)

    নৌ বিমা কী?

    (1)
  2. খ)

    নৌ বিমা চুক্তিকে কেন ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কর্ণফুলি কোং লি. কোন ধরনের বিমা করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'X' কোম্পানি কর্তৃক 'Y' ও 'Z' বিমা কোম্পানির নিকট ক্ষতিপূরণ দাবির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে বিমা চুক্তির মাধ্যমে নৌপথের বিভিন্ন সামুদ্রিক বা জলপথের বিপদজনিত কারণে জাহাজের বা মালের কোনো ক্ষতি হলে বিমাকারী তার ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাকে নৌ বিমা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নৌ বিমার উদ্দেশ্য কোনো পক্ষকে মুনাফা বা অতিরিক্ত আর্থিক লাভ করতে দেওয়া নয়, বরং সামুদ্রিক বিপদের ফলে বিমাগ্রহীতার প্রকৃতপক্ষে যে আর্থিক ক্ষতি হয় তা পূরণ করে বিমাগ্রহীতাকে বিপদের পূর্ববর্তী আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। ক্ষতি না হলে কোনো দাবি পাওয়া যায় না এবং প্রকৃত ক্ষতির অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও দাবি করা যায় না। তাই নৌ বিমা চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্ণফুলি কোম্পানি লি. 'দ্বৈত বিমা' (Double Insurance) করেছে।

    যখন কোনো বিমাগ্রহীতা একই বিমাযোগ্য বিষয়ের ওপর একই ঝুঁকির জন্য একাধিক বিমা কোম্পানির সাথে পৃথক পৃথক বিমা চুক্তি সম্পাদন করে এবং মোট বিমাকৃত অংক সম্পদের প্রকৃত মূল্যের সমান বা বেশি হয়, তখন তাকে দ্বৈত বিমা বলা হয়।

    উদ্দীপকে কর্ণফুলি কোম্পানি লি. তাদের ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজের সুরক্ষার জন্য একক কোনো কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে 'X', 'Y' ও 'Z'—এই তিনটি বিমা কোম্পানির নিকট সমান মূল্যে (প্রতিটিতে ১৫ কোটি টাকা করে) বিমা করেছে। একই সম্পত্তিকে একাধিক বিমাকারীর অধীনে বিমা করার কারণে এটি দ্বৈত বিমা পদ্ধতির আওতাভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'X' কোম্পানি কর্তৃক 'Y' ও 'Z' বিমা কোম্পানির নিকট আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ দাবির সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও আইনসম্মত।

    বিমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো 'অংশগ্রহণ নীতি' (Principle of Contribution)। দ্বৈত বিমার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে বিমাগ্রহীতা যেকোনো একটি বিমা কোম্পানির কাছ থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে। তবে যে বিমাকারী সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে, সে বিমার অংশগ্রহণ নীতি অনুসারে অন্যান্য সহ-বিমাকারীদের কাছ থেকে নিজ নিজ বিমাকৃত অংকের আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণের অংশ দাবি ও আদায় করার আইনগত অধিকার পায়। বিমার ক্ষতিপূরণের নীতি বজায় রাখা এবং কোনো একক বিমাকারীর ওপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপানোর জন্যই এ নীতি প্রযোজ্য।

    উদ্দীপকে জাহাজের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৯ কোটি টাকা, যা কর্ণফুলি কোম্পানি লি. এককভাবে 'X' বিমা কোম্পানির নিকট থেকে আদায় করেছে। যেহেতু 'X', 'Y' এবং 'Z' তিনটি কোম্পানিই সমান মূল্যে জাহাজটির বিমা গ্রহণ করেছিল, সেহেতু প্রত্যেকের দায় সমানভাবে ৩ কোটি টাকা করে বহন করার কথা। সুতরাং, 'X' কোম্পানি একা ৯ কোটি টাকা পরিশোধ করায় সে বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান 'Y' এবং 'Z'-এর নিকট থেকে ৩ কোটি টাকা করে মোট ৬ কোটি টাকা আনুপাতিক হারে দাবি করতে পারে। অতএব, 'X' কোম্পানির এই পদক্ষেপ বিমা আইনের অংশগ্রহণ নীতি অনুযায়ী পুরোপুরি সংগত ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন