পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'S' নামক রাষ্ট্র দুটি অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দেয়। শুরু হয় বঞ্চিত সম্প্রদায়ের তীব্র আন্দোলন। যার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধানের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষার রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে।
- ক)(1)
মৌলিক গণতন্ত্র কে প্রবর্তন করেন?
- খ)(2)
২৫ মার্চকে “কাল রাত” বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধান সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে - তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরীহ, নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা ('অপারেশন সার্চলাইট') চালায় বলে এই রাতটিকে “কাল রাত” বলা হয়। এই রাতে ট্যাংক, কামান ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত সাধারণ মানুষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের সদস্যদের নির্বিচারে হত্যা করে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংসতম ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানটি হলো পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের প্রথম সংবিধান।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ এ সংবিধান কার্যকর হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, বঞ্চিত সম্প্রদায়ের তীব্র ভাষা আন্দোলনের মুখে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে প্রথম সংবিধানে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের যৌথভাবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয় (অনুচ্ছেদ ২১৪)। এ সংবিধানে পাকিস্তানকে একটি 'ইসলামিক রিপাবলিক' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, এক কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য আইনসভায় সমান প্রতিনিধিত্বের (প্যারিটি) নীতি গ্রহণ করা হয়। তবে এ সংবিধান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনটি নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের প্রধান প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল—এ মতের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এ আন্দোলনের ফলে বাঙালিরা উপলব্ধি করতে পারে যে ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি সম্ভব নয়।
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে নিজস্ব ভাষাগত ও সংস্কৃতিভিত্তিক এক সুদৃঢ় 'বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা' জাগ্রত করে। এই চেতনার ধারাবাহিকতাতেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জিত হয়। সবশেষে এই চেতনার চরম বিকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে, যার মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। অতএব, ভাষা আন্দোলনই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল সূতিকাগার ও অবিনাশী প্রেরণা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও