জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বেরিয়াট্রিকস্ কী?
- খ)(2)
ইমালসিফিকেশন বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'খ' অংশে খাদ্য পরিপাক বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' অংশটি বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কথাটি— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় মানুষের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার কারণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে বেরিয়াট্রিকস্ (Bariatrics) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিত্তরসে উপস্থিত পিত্তলবণগুলোর (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টরোকোলেট) সহায়তায় চর্বি বা লিপিডের বৃহৎ অণুগুলো ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোঁটায় (ড্রপলেট) পরিণত হওয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে।
এর ফলে লিপিডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি পায়, যা লাইপেজ এনজাইমের দ্রুত ও কার্যকরভাবে চর্বি বিশ্লেষণে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ' অংশটি হলো পাকস্থলী (Stomach)। পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. যান্ত্রিক পরিপাক:
পাকস্থলীর প্রাচীরের তিনটি স্তরে সজ্জিত অনৈচ্ছিক পেশির পেরিস্টালসিস বা সংকোচন-প্রসারণের ফলে গৃহীত খাদ্য পিষে কাইম বা মণ্ডে পরিণত হয়। এ সময় খাদ্য গ্যাস্ট্রিক রসের সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত হয়।২. রাসায়নিক পরিপাক:
পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক রসে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং নিষ্ক্রিয় প্রো-এনজাইম থাকে।- HCl এর ভূমিকা: HCl খাদ্যের জীবাণু ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তর করে খাদ্যকে অম্লীয় মাধ্যম প্রদান করে।
- প্রোটিন পরিপাক: সক্রিয় পেপসিন অ্যাসিডীয় পরিবেশে প্রোটিনকে ভেঙে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিন এনজাইম দুগ্ধ-প্রোটিন কেসিনকে প্যারাকেসিনে রূপান্তর করে।
- লিপিড পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ মৃদু অম্লীয় মাধ্যমে কেবল মাখন বা দুগ্ধজাত সহজ চর্বির ওপর সামান্য ক্রিয়া করে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তর করতে পারে।
- শর্করা পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক রসে শর্করা পরিপাককারী কোনো উৎসেচক না থাকায় পাকস্থলীতে শর্করা জাতীয় খাদ্যের রাসায়নিক পরিপাক ঘটে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃৎ (Liver)। বিপাকে যকৃতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই একে 'জৈব রসায়নাগার' বলা হয়। নিচে বিপাকে যকৃতের ভূমিকা আলোচনা করা হলো:
১. শর্করা বিপাক:
- গ্লাইকোজেনেসিস: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়লে ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃৎ অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে।
- গ্লাইকোজেনোলাইসিস: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ভেঙে পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত হয়।
- গ্লুকোনিওজেনেসিস: অনাহারের সময় অ-শর্করা উৎস (যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড, গ্লিসারল, ল্যাকটিক অ্যাসিড) থেকে যকৃৎ নতুন গ্লুকোজ তৈরি করে।
২. প্রোটিন বা অ্যামাইনো অ্যাসিড বিপাক:
- ডিমিনেশন: অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড থেকে ডিমিনেশনের মাধ্যমে অ্যামাইনো গ্রুপ আলাদা হয়ে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া তৈরি হয়।
- ইউরিয়া চক্র (অরনিথিন চক্র): বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সাথে যুক্ত করে কম ক্ষতিকর ইউরিয়ায় রূপান্তর করে, যা বৃক্ক দিয়ে মূত্রের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।
- প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষ: যকৃৎ রক্তরস প্রোটিন যেমন অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন ও প্রথম্বিন সংশ্লেষ করে।
৩. লিপিড বা চর্বি বিপাক:
- ফ্যাটি অ্যাসিডের β-অক্সিডেশন ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদন এবং অতিরিক্ত শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে মেদকলায় সঞ্চয় করে।
- কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড এবং লিপোপ্রোটিন (HDL, LDL) তৈরি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. পিত্ত উৎপাদন ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন:
যকৃৎ পিত্ত তৈরি করে চর্বি পরিপাকে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ, ওষুধ ও অ্যালকোহলকে নিষ্ক্রিয় (Detoxification) করে।সুতরাং, শর্করা, প্রোটিন ও লিপিড বিপাকের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মানবদেহে যকৃৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও