জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক মানুষের রক্তসংবহন তন্ত্র সম্পর্কে পাঠদানকালে বললেন, তিন ধরনের কোষীয় উপাদান পৃথক পৃথক কাজ সম্পাদন করে থাকে। প্রথমটি শ্বসন গ্যাস বিনিময়, দ্বিতীয়টি প্রতিরক্ষা ও তৃতীয়টি রক্ত তঞ্চনে সহায়তা করে।
- ক)(1)
অ্যানজাইনা কী?
- খ)(2)
পেরিস্টালসিস বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় কোষীয় উপাদানটির ভূমিকা লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রথম ও তৃতীয় কোষীয় উপাদানের তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃৎপেশিতে করোনারি ধমনির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রক্ত বা অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গেলে বুকে যে তীব্র ও চাপযুক্ত ব্যথার সৃষ্টি হয়, তাকে অ্যানজাইনা (Angina pectoris) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পেরিস্টালসিস হলো পরিপাকনালির প্রাচীরের মসৃণ পেশির এক ধরনের ছন্দোবদ্ধ ও ধারাবাহিক সংকোচন-প্রসারণজনিত তরঙ্গাকার আন্দোলন, যার ফলে গৃহীত খাদ্যবস্তু গলবিল থেকে পাকস্থলী হয়ে পায়ু অভিমুখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্রসর হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় কোষীয় উপাদানটি যা প্রতিরক্ষা কাজে অংশ নেয়, তা হলো শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট (WBC)। মানবদেহে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. ফ্যাগোসাইটোসিস: শ্বেত রক্তকণিকার নিউট্রোফিল ও মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহে প্রবেশকারী রোগজীবাণু ও ক্ষতিকর বহিরাগত কণাকে সরাসরি ভক্ষণ ও ধ্বংস করে। মনোসাইট রূপান্তরিত হয়ে ম্যাক্রোফেজে পরিণত হয় এবং টিস্যু পরিষ্কার রাখে।
২. অ্যান্টিবডি উৎপাদন: লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা অ্যান্টিবডি তৈরি করে অ্যান্টিজেনকে নিস্ক্রিয় করে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Adaptive Immunity) প্রদান করে।
৩. হেপারিন ও হিস্টামিন ক্ষরণ: বেসোফিল হেপারিন ক্ষরণ করে রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং হিস্টামিন ক্ষরণ করে প্রদাহজনিত অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৪. কৃমির লার্ভা ধ্বংস: ইয়োসিনোফিল হিস্টামিনাস নিঃসৃত করে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরজীবী কৃমির লার্ভা ও ক্ষতিকর প্রোটিন ধ্বংস করে।সুতরাং, শ্বেত রক্তকণিকা দেহের ভ্রাম্যমাণ প্রতিরক্ষা দল বা 'দেহের প্রহরী' হিসেবে অনাক্রম্যতায় মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম কোষীয় উপাদানটি হলো লোহিত রক্তকণিকা বা এরিথ্রোসাইট (শ্বসন গ্যাস বিনিময়কারী) এবং তৃতীয় কোষীয় উপাদানটি হলো অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট (রক্ত তঞ্চনে সহায়তাকারী)। নিম্নে এদের মধ্যে তুলনা উপস্থাপন করা হলো:
১. গঠন ও আকৃতি: লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল ও বৃত্তাকার চাকতির মতো; অপরদিকে অণুচক্রিকা ক্ষুদ্রাকার, ডিম্বাকার, গোল বা রডের মতো অনিয়মিত আকৃতির।
২. নিউক্লিয়াস: পূর্ণাঙ্গ মানব লোহিত রক্তকণিকায় কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না; অণুচক্রিকাও নিউক্লিয়াসবিহীন (অস্থিমজ্জার মেগাক্যারিওসাইট কোষের সাইটোপ্লাজমীয় খণ্ডাংশ)।
৩. রঞ্জক পদার্থ: লোহিত রক্তকণিকায় লৌহঘটিত হিমোগ্লোবিন থাকে, যার কারণে রক্ত লাল দেখায়; কিন্তু অণুচক্রিকায় কোনো হিমোগ্লোবিন থাকে না এবং এটি বর্ণহীন।
৪. সংখ্যা: প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় ৪৫-৫০ লক্ষ; অন্যদিকে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় ১.৫ থেকে ৪ লক্ষ।
৫. গড় আয়ু: লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন; অণুচক্রিকার গড় আয়ু মাত্র ৫ থেকে ৯ বা ১০ দিন।
৬. প্রধান কাজ: লোহিত রক্তকণিকার প্রধান কাজ হলো হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে দেহকোষে পরিবহন এবং কোষ থেকে ফুসফুসে কিছু পরিমাণ পরিবহন করা। অপরদিকে, অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্তপাত বন্ধ করতে অস্থায়ী প্লাগ গঠন করা এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন ক্ষরণের মাধ্যমে রক্ত তঞ্চন (blood clotting) ঘটানো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও