যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি বাচ্চাকে কয়েকদিন যাবত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না । জলিল বললো, কোনো ভূত বাচ্চাটিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলো। পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করল। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করে পাঁচজনের মধ্য থেকে প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করল।

  1. ক)

    প্রকল্পের প্রথম স্তর কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    যাচাইকরণ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করার বিষয়টি প্রকল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জলিলের প্রকল্পটি সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকল্পের প্রথম স্তর হলো নিরীক্ষণ বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকল্পের যাচাইকরণ হলো প্রকল্পের মাধ্যমে গঠিত আনুমানিক ধারণাকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে দেখা যে তা সত্য কি না। প্রকল্প প্রণয়নের পর সেটি সঠিক কি না তা নির্ধারণের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাস্তব ঘটনার সাথে মিলিয়ে প্রমাণ করতে হয়। যাচাইকরণের মাধ্যমে একটি প্রকল্প শেষ পর্যন্ত সত্য বলে গৃহীত হয় অথবা বাতিল হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার প্রকল্পের যাচাইকরণ (Verification) স্তরের সাথে সংগতিপূর্ণ।

    কোনো ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা বা প্রকল্প প্রণয়ন করার পর তা বাস্তব প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করতে হয়। যাচাইকরণ দুইভাবে হতে পারে—প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ।

    উদ্দীপকে বাচ্চা নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে চিহ্নিত করে একটি প্রকল্প গঠন করে। এরপর পুলিশ মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করে। এই কল রেকর্ড যাচাই করার মাধ্যমে পুলিশ তাদের আনুমানিক ধারণাকে তথ্যের সাহায্যে পরীক্ষা করে প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করে। অর্থাৎ, এখানে প্রকল্পটির বাস্তব ও প্রত্যক্ষ যাচাইকরণ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্পকে নিশ্চিত সত্যে পরিণত করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জলিলের প্রকল্পটি যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিতে একটি ‘অবৈধ প্রকল্প’ বা ‘অলীক প্রকল্প’, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিচে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো:

    একটি বৈধ প্রকল্পের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি রয়েছে। যেমন—প্রকল্পকে অবশ্যই বাস্তবসম্মত, স্ববিরোধীহীন, যাচাইযোগ্য এবং পরিচিত বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কোনো অজ্ঞাত, কাল্পনিক বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প গঠন করা হলে তা অবৈধ হয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকে জলিল নিখোঁজ বাচ্চার বিষয়ে ধারণা পোষণ করে যে, ‘কোনো ভূত বাচ্চাটিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে’। জলিলের এই প্রকল্পে ভূতের উপস্থিতি একটি অবাস্তব, অতিপ্রাকৃতিক ও অলীক সত্তা। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই যাচাই করা সম্ভব নয়। যুক্তিবিদ্যায় একে ভিত্তিহীন বা অলীক প্রকল্প বলা হয়।

    সুতরাং, জলিলের প্রকল্পটি যুক্তিবিদ্যার নিয়ম ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরিপন্থী হওয়ায় তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বর্জনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন