ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আতিক একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের প্রয়োজনে তিনি তার এলাকার একটি ব্যাংকের সাথে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করেন। ব্যবসায় সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে তিনি ৫০,০০০ টাকা ঋণ সহায়তার জন্য তার ব্যাংক-এ আবেদন করেন। ব্যাংকের SLR 20%। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সংকোচন নীতির আওতায় এক সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংক হার ও জমার হার বৃদ্ধি করায় আতিকের ব্যাংকটি ঋণ সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
- ক)(1)
তালিকাভুক্ত ব্যাংক কী?
- খ)(2)
শাখা ব্যাংক বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আতিকের ব্যাংকটি কী পরিমাণ ঋণ-আমানত সৃষ্টি করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আতিকের ব্যাংকটি কেন ঋণ সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করল তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন ও শর্তানুযায়ী নিবন্ধিত হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকা বা তফসিলভুক্ত হয়, সেগুলোকে তালিকাভুক্ত (বা তফসিলি) ব্যাংক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি প্রধান কার্যালয়ের অধীনে দেশ-বিদেশে একাধিক শাখা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে শাখা ব্যাংক বলে।
এ ব্যবস্থায় প্রধান কার্যালয় নীতি নির্ধারণ করে এবং শাখাসমূহ সরাসরি গ্রাহকদের সাথে লেনদেন সম্পন্ন করে। শাখা ব্যাংকিংয়ের ফলে ঝুঁকি বণ্টন, মূলধনের সহজ সঞ্চালন ও বিস্তৃত পরিসরে সেবা প্রদান সম্ভব হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী আতিকের ব্যাংকটির ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা ঋণ গুণকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায়।
আমরা জানি, ঋণ গুণক (Credit Multiplier) = ১ / জমার হার (SLR বা সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত)
এখানে, জমার হার = ২০% বা ০.২০
সুতরাং, ঋণ গুণক = ১ / ০.২০ = ৫।আতিকের ঋণ আবেদন ৫০,০০০ টাকা এবং এটি যদি প্রাথমিক বা নতুন আমানত হিসেবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, তবে সম্ভাব্য মোট সৃষ্ট ঋণ-আমানতের পরিমাণ হবে:
মোট ঋণ-আমানত = প্রাথমিক ঋণ/আমানত × ঋণ গুণক
= ৫০,০০০ × ৫ = ২,৫০,০০০ টাকা।এবং সৃষ্ট নিট ঋণের পরিমাণ = ২,৫০,০০০ - ৫০,০০০ = ২,০০,০০০ টাকা।
অতএব, ব্যাংকটি সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ টাকার মোট আমানত বা ২,০০,০০০ টাকার নতুন ঋণ সৃষ্টি করতে সক্ষম। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত ঋণ সংকোচন নীতির কারণে আতিকের ব্যাংকের ঋণ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ যথার্থ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা সরবরাহ সংকোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংক হার বৃদ্ধি এবং জমার হার (Cash Reserve Ratio বা SLR) বৃদ্ধি করা।
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির আওতায় সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংক হার ও জমার হার উভয়ই বৃদ্ধি করেছে। জমার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আমানতের একটি বৃহত্তর অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বা তারল্য হিসেবে জমা রাখতে বাধ্য হতে হয়, ফলে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত ঋণদানযোগ্য তহবিলের পরিমাণ হ্রাস পায়। অন্যদিকে ব্যাংক হার বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন বা ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা তাদের ঋণ প্রদানে নিরুৎসাহিত বা অসমর্থ করে তোলে।
অতএব, তহবিলের তারল্য সংকট এবং ঋণ সংকোচন নীতির বাধ্যতামূলক নিয়মকানুন পরিপালনের কারণে ব্যাংকটির পক্ষে আতিককে নতুন ঋণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও