কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
কমলার একটি জাতের নাম লেখো।
- খ)(2)
'ফল চাষ লাভজনক'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত পাট ফসলের পোকাটির ক্ষতির প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-২ এ প্রদর্শিত রোগাক্রান্ত ধান ফসলের রোগের দমন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কমলার একটি উন্নত জাত হলো বারি কমলা-১ (অথবা নাগপুরী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফল চাষ অন্যান্য মাঠ ফসলের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। একবার ফলের বাগান তৈরি করলে বহু বছর ধরে নিয়মিত ফলন ও আর্থিক আয় পাওয়া যায়। ফলের বাজারমূল্য ও পুষ্টিমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। এছাড়া ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ থাকায় ফল চাষ কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত স্বাবলম্বী করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত পাটের ক্ষতিকারক পোকাটি হলো পাটের বিছা পোকা (Jute Hairy Caterpillar)।
ক্ষতির প্রকৃতি:
১. ডিম ফুটে বের হওয়া ছোট ছোট কীড়া বা বিছাগুলো দলবদ্ধভাবে পাতার নিচের পিঠে অবস্থান করে সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে সাদা পর্দার মতো বা জালের মতো করে ফেলে।
২. কীড়াগুলো বড় হলে পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাতার সবুজ অংশ খেয়ে শুধু পাতার শিরাগুলো অবশিষ্ট রাখে।
৩. পুরো ক্ষেত আক্রান্ত হলে পাটের গাছগুলো প্রায় পাতাহীন বা কঙ্কালসার হয়ে যায়।
৪. এর ফলে গাছের সালোকসংশ্লেষণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং ফলন ও আঁশের গুণগত মান আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-২ এ ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া (Bacterial Leaf Blight/BLB) রোগ প্রদর্শিত হয়েছে, যা Xanthomonas oryzae ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে থাকে। এর কার্যকর দমন ব্যবস্থা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রোগমুক্ত ও প্রতিরোধী জাত ব্যবহার: রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল ধানের জাত (যেমন: ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান২৯ ইত্যাদি) চাষ করা এবং সুস্থ-সবল বীজ ব্যবহার করা।
২. বীজ শোধন: বপনের আগে প্রতি কেজি বীজে ট্রাইকোডার্মা বা অনুমোদিত ছত্রাক/জীবাণুনাশক মিশিয়ে শোধন করে নেওয়া।
৩. সুষম সার ব্যবস্থাপনা: রোগাক্রান্ত জমিতে নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। রোগ দেখা দিলে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি পটাশ (MOP) সার প্রয়োগ করতে হবে।
৪. পানি নিষ্কাশন: রোগ দেখা দেওয়া মাত্র আক্রান্ত জমির পানি শুকিয়ে দিতে হবে এবং কয়েকদিন পর নতুন পরিষ্কার পানি দিতে হবে।
৫. রাসায়নিক ও অন্যান্য দমন: রোগের প্রকোপ বেশি হলে অনুমোদিত কপারযুক্ত ছত্রাকনাশক/ব্যাকটেরিয়ানাশক যেমন কপার অক্সিক্লোরাইড (যেমন- কুপ্রাভিট) অথবা থিওভিট স্প্রে করা যেতে পারে। এছাড়া ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করলে রোগের বিস্তার রোধ হয়।উপরিউক্ত সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে ধানের পাতা পোড়া রোগ কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও