সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ইতিহাস অধ্যয়ন করে তাহসিন পাক-ভারত উপমহাদেশের একটি প্রাচীন সভ্যতার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। এ সভ্যতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এতে রয়েছে আধুনিক নাগরিক জীবনের সুযোগ- সুবিধা। একতলা-দোতলা বাড়ি, গলি ও সুপ্রশস্ত রাস্তা, পরিকল্পিত। আবাসিক ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ল্যাম্প পোস্ট, শস্যাগার প্রভৃতির উপস্থিতি ছিল বলে সে জানতে পারে।

  1. ক)

    জাভা মানব কোন যুগের অধিবাসী?

    (1)
  2. খ)

    প্রত্নতত্ত্বের উৎস হিসেবে মুদ্রার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সভ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তাহসিন উদ্দীপকে বর্ণিত সভ্যতাটির সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব কীভাবে লিপিবদ্ধ করতে পারে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাভা মানব প্রাচীন বা নিম্ন প্রত্নপ্রস্তর (প্যালিওলিথিক) যুগের অধিবাসী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রত্নতত্ত্বের উৎস হিসেবে মুদ্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুদ্রার ওপর খোদাই করা শাসকের নাম, অবয়ব, সন-তারিখ এবং ধর্মীয় প্রতীক থেকে তৎকালীন সমাজের শাসনকাল, রাজনৈতিক অবস্থা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং শিল্পের মান সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া মুদ্রায় ব্যবহৃত ধাতু ও তার বিস্তার থেকে সেই সময়ের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাচীন পাক-ভারত উপমহাদেশের 'সিন্ধু সভ্যতা'র (বা হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    সিন্ধু সভ্যতা ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। এ সভ্যতার নগরগুলোতে সোজা ও সুপ্রশস্ত রাস্তা, রাস্তার ধারে ল্যাম্পপোস্ট বা সড়কবাতি, একতলা ও দোতলা পোড়ামাটির ইটের বাড়ি এবং বৈজ্ঞানিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (ড্রেন) ছিল। এছাড়াও বড় বড় শস্যাগার ও স্নানাগার ছিল এই সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উদ্দীপকে তাহসিনের জানা পাক-ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন সভ্যতার আধুনিক নাগরিক জীবনের সুবিধা, একতলা-দোতলা বাড়ি, চওড়া রাস্তা, ল্যাম্পপোস্ট, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ও শস্যাগারের উপস্থিতি হুবহু সিন্ধু সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনার সাথে মিলে যায়। তাই এটি সিন্ধু সভ্যতাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তাহসিন সিন্ধু সভ্যতার সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্বকে সামাজিক শ্রেণিভেদ, নগর পরিকল্পনা, শ্রমবিভাগ, শাসনব্যবস্থা ও উন্নত জীবনমানের নিরিখে লিপিবদ্ধ করতে পারে। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক জীবন: সিন্ধু সভ্যতা গ্রামীণ সমাজ থেকে জটিল নগর সমাজে উত্তরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সুপরিকল্পিত রাস্তা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধাসমূহ প্রমাণ করে যে সেখানে অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি পৌর বা সামাজিক প্রশাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।

    ২. সামাজিক স্তরবিন্যাস ও শ্রেণিভেদ: নগরীর দুর্গ অঞ্চল (সিটাডেল) এবং সাধারণ আবাসিক এলাকার বাড়িঘরের আয়তন ও কাঠামোর বৈচিত্র্য থেকে বোঝা যায় তৎকালীন সমাজে শাসক, পুরোহিত, ধনী বণিক এবং সাধারণ শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে সামাজিক স্তরবিন্যাস ছিল।

    ৩. শ্রমবিভাগ ও পেশাগত বৈচিত্র্য: কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের বাইরেও সমাজে রাজমিস্ত্রি, কুমোর, তাঁতি, ধাতুশিল্পী ও দূরবর্তী বাণিজ্য পরিচালনাকারী বণিকদের উপস্থিতি সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে জটিল শ্রমবিভাগকে নির্দেশ করে।

    ৪. কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা: বিশাল শস্যাগার সংরক্ষণ, মাপ ও ওজনের নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং নাগরিক নিয়মকানুন বজায় রাখা প্রমাণ করে যে সিন্ধু সমাজে সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো এবং যৌথ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।

    অতএব, তাহসিন সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই সভ্যতার উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক সংগঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়নকে এর মূল সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন