অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' দেশে ১৯৯৮ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক ছিল ১১৫ এবং ১৯৯৯ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক বেড়ে ১৫০ হয়। দেশটির সরকার এ সমস্যা মোকাবিলায় অর্থের যোগান হ্রাস, প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি, ব্যাংক হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
'মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদনকারীর জন্য সুফল বয়ে আনে।'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
‘X' দেশে ১৯৯৯ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার কত ছিল?
- ঘ)(4)
'X' দেশের সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোর যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক যোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দ্রব্যসামগ্রীর দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পাওয়ার পরিস্থিতিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির সময় পণ্যের দামস্তর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তাই এটি তাদের জন্য সুফল বয়ে আনে।
মুদ্রাস্ফীতির কারণে পণ্যের বিক্রয়মূল্য যে হারে বাড়ে, সাধারণত উৎপাদন খরচ (যেমন কাঁচামাল বা শ্রমিকের মজুরি) তাৎক্ষণিকভাবে সেই হারে বৃদ্ধি পায় না। ফলে বিক্রয়মূল্য ও উৎপাদন খরচের মধ্যকার পার্থক্য বা মুনাফার ব্যবধান বাড়ে। এতে উৎপাদনকারীরা উৎসাহিত হয়ে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণ করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী,
ভিত্তি বছর ১৯৯৮ সালের ভোক্তার মূল্যসূচক () = ১১৫
বর্তমান বছর ১৯৯৯ সালের ভোক্তার মূল্যসূচক () = ১৫০মুদ্রাস্ফীতির হার () নির্ণয়ের সূত্র:
মান বসিয়ে পাই,
অতএব, 'X' দেশে ১৯৯৯ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩০.৪৩%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' দেশে ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৪৩% হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আর্থিক ও রাজস্ব নীতির মাধ্যমে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার যথার্থতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থের যোগান হ্রাস: বাজারে অর্থের সরবরাহ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে মোট চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং দাম বাড়ে। অর্থের যোগান সংকুচিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।
২. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঋণগ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, বেসরকারি ঋণ ও বিনিয়োগ কমে যায় এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ কর (যেমন আয়কর) বৃদ্ধির ফলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পায়। ফলে মানুষের ভোগব্যয় কমে এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে মূল্যস্তর হ্রাস পায়।
৪. উৎপাদন বৃদ্ধি: দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পণ্যের সামগ্রিক যোগান বাড়ানো। উদ্দীপকে সরকার উৎপাদন বৃদ্ধির যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
অতএব, সামগ্রিক চাহিদা সংকোচন এবং সামগ্রিক যোগান বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে 'X' দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও