জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সক্রিয় পরিশোষন কী?
- খ)(2)
ATP কে জৈবিক মুদ্রা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে R এর খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্দীপকের প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শোষণ প্রক্রিয়ায় বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে ঘনত্বের নতির বিপরীতে আয়ন শোষিত হয়, তাকে সক্রিয় পরিশোষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)-এর প্রান্তীয় ফসফেট বন্ধনীতে প্রচুর শক্তি জমা থাকে। কোষে যখন শক্তি প্রয়োজন হয়, তখন এই বন্ধনী ভেঙে শক্তি নির্গত হয় এবং বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। আবার শক্তি উৎপাদনের সময় শক্তি সঞ্চিত করে রাখে। এভাবে জীবদেহে শক্তি লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করায় ATP-কে জৈবিক মুদ্রা বা এনার্জি কারেন্সি (Energy Currency) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'R' হলো পত্ররন্ধ্র (Stoma)। পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ হলো বিজ্ঞানী ইমামুরার (১৯৪৩) প্রবর্তিত এবং লেভিট (১৯৭৪) কর্তৃক সংশোধিত ‘প্রোটন প্রবাহ বা আয়ন প্রবাহ মতবাদ’।
১. পত্ররন্ধ্র খোলা:
দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে রক্ষীকোষে ব্লু-লাইট বা নীল আলোর প্রভাবে প্রোটন পাম্প সক্রিয় হয়। রক্ষীকোষ থেকে H⁺ (প্রোটন) বাইরে বের হয়ে যায় এবং পাশের কোষ থেকে K⁺ ও Cl⁻ আয়ন দ্রুত রক্ষীকোষের ভেতরে প্রবেশ করে। রক্ষীকোষে K⁺ আয়নের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্ত অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় চারপাশের সহকারী কোষ থেকে রক্ষীকোষে পানি প্রবেশ করে। ফলে রক্ষীকোষ স্ফীত (turgid) হয় এবং এর পাতলা বহিঃপ্রাচীর বাইরের দিকে প্রসারিত হয়ে রন্ধ্রকে টেনে খুলে দেয়।২. পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়া:
অন্ধকারে বা আলোর অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে এবং প্রোটন পাম্প নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে K⁺ আয়ন রক্ষীকোষ থেকে বাইরে চলে যায় এবং রক্ষীকোষের পানি বাইরে বের হয়ে যায়। এছাড়া পানির অভাবে রক্ষীকোষে অ্যাবসিসিক অ্যাসিড (ABA) উৎপন্ন হয় যা K⁺ বহির্গমনে ভূমিকা রাখে। এতে রক্ষীকোষ শিথিল বা শ্লথ (flaccid) হয়ে পড়ে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত জলীয় বাষ্প নির্গমনের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন (Transpiration)। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম:
১. পানি চক্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা: উদ্ভিদ প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প নির্গত করে। এই জলীয় বাষ্প মেঘের সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে মাটিতে ফিরে আসে, যা সার্বিক জলবায়ু ও পানি চক্রের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখে।
২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: প্রস্বেদনের ফলে পাতা ও আশেপাশের পরিবেশ থেকে সুপ্ততাপ নির্গত হয়, যা উদ্ভিদদেহকে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে রক্ষা করে এবং স্থানীয় বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা শীতল ও সহনশীল রাখতে ভূমিকা রাখে।
৩. উদ্ভিদের বেঁচে থাকা ও বনভূমির বিস্তার: প্রস্বেদন টানের মাধ্যমে উদ্ভিদ মাটি থেকে অবিরাম পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছে দেয়। এর ফলে গাছপালা সতেজ থাকে ও পরিবেশ সবুজে পূর্ণ থাকে।
৪. আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: বায়ুমণ্ডলের শুষ্কতা দূর করে আপেক্ষিক আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখতে প্রস্বেদন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং, ভূ-পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের মাঝে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জলবায়ুর চরম ভাবাপন্নতা রোধ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় উদ্দীপকের প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও