জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর:

- ক)(1)
হাইপোস্টোম কী?
- খ)(2)
স্টেরিওগ্যাস্ট্রুলা বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির এপিডার্মিসের কোষসমূহের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'P' অংশগুলো খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চলন কাজেও অংশ নেয়— আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রার দেহের মুক্ত প্রান্তের শঙ্কু আকৃতির সংকোচন-প্রসারণশীল অংশ, যার শীর্ষে মুখছিদ্র অবস্থিত, তাকে হাইপোস্টোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রার পরিস্ফুটনকালে গ্যাস্ট্রুলেশন প্রক্রিয়ার শেষে নিরেট গ্যাস্ট্রুলা গঠিত হয়, যাকে স্টেরিওগ্যাস্ট্রুলা বলে। এতে কোনো গ্যাস্ট্রোসিল বা আদি পৌষ্টিক গহ্বর থাকে না। এটি একস্তর বিশিষ্ট এক্টোডার্ম এবং অভ্যন্তরে নিরেট এন্ডোডার্ম কোষপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)। নিচে হাইড্রার বহিত্বক বা এপিডার্মিসের বিভিন্ন প্রকার কোষের একটি চিহ্নিত চিত্র আঁকা হলো:
[হাইড্রার এপিডার্মিসের উল্লম্বচ্ছেদ/কোষসমূহের চিহ্নিত চিত্র]
(পরীক্ষার্থীকে এখানে হাইড্রার এপিডার্মিসের একটি স্পষ্ট চিত্র অঙ্কন করতে হবে এবং তাতে নিম্নলিখিত কোষগুলো চিহ্নিত করতে হবে):
১. পেশি-আবরণী কোষ (Epithelio-muscular cell)
২. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell)
৩. নিডোসাইট কোষ (Cnidocyte)
৪. সংবেদী কোষ (Sensory cell)
৫. স্নায়ু কোষ (Nerve cell)
৬. গ্রন্থি কোষ (Gland cell)
৭. জনন কোষ (Germ cell)
এছাড়া মেসোগ্লিয়া এবং কিউটিকল প্রদর্শন করতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিহ্নিত 'P' অংশগুলো হলো হাইড্রার কর্ষিকা (tentacles)। কর্ষিকা খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চলন কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১. খাদ্য সংগ্রহে ভূমিকা:
- কর্ষিকায় প্রচুর পরিমাণে নিমাটোসিস্টযুক্ত নিডোসাইট কোষ থাকে। শিকার কাছে এলে কর্ষিকার নিমাটোসিস্ট (যেমন- স্টিনোটিল) সূত্রক নিক্ষেপ করে হিপনোটক্সিন বিষের সাহায্যে শিকারকে অবশ করে ফেলে।
- ভলভেন্ট নিমাটোসিস্ট সূত্রক দিয়ে শিকারকে শক্তভাবে পেঁচিয়ে ধরে।
- স্ট্রেপ্টোলিন ও স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট ধরনের নিমাটোসিস্ট আঠালো রস ক্ষরণ করে শিকারকে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
- পরবর্তীতে কর্ষিকাগুলো সংকুচিত ও বাঁকা হয়ে শিকারকে হাইপোস্টোমের মুখছিদ্রে নিয়ে আসে।
২. চলনে ভূমিকা:
- লুপিং (হামাগুড়ি): এ পদ্ধতিতে হাইড্রা দেহকে বাঁকিয়ে কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নিমাটোসিস্টের সাহায্যে ভিত্তিকে স্পর্শ করে আটকে রাখে। এরপর পাদচাকতি মুক্ত করে কর্ষিকার কাছে নিয়ে আসে।
- সমারসল্টিং (ডিগবাজি): দ্রুত চলনের ক্ষেত্রে হাইড্রা কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে দেহকে উল্লম্বভাবে সোজা করে ও ডিগবাজির মতো উল্টে সামনে অগ্রসর হয়।
- আরোহণ বা ক্লাইম্বিং: জলজ উদ্ভিদের পাতার সাথে কর্ষিকা আটকে রেখে দেহকে টেনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়।
- সাঁতার কাটা: হাইড্রা কর্ষিকাগুলোর ছন্দময় আন্দোলনের মাধ্যমে পানিতে সাঁতার কাটে।
সুতরাং, দেখা যায় যে হাইড্রার কর্ষিকা ('P') একদিকে নিমাটোসিস্টের সাহায্যে খাদ্য শিকারে মূল অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এবং অন্যদিকে স্থান পরিবর্তনের বিভিন্ন চলন প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও