পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দু'দল শিক্ষার্থী বিদেশে শিক্ষা সফরে যায়। প্রথম দলটি বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশ ঘুরে একটি দেশে গিয়ে 'ক' নামক একটি আঞ্চলিক সংস্থার সচিবালয় দেখতে পায়। অপর দলটি আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম তীরবর্তী একটি দেশে যায়। সেখানে 'খ' নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত। এই সংস্থায় শান্তিকামী যেকোনো রাষ্ট্র সদস্য হতে পারে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় এই সংস্থাটিতে বাংলাদেশের অবদান প্রশংসনীয়।

  1. ক)

    SAARC-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    কমনওয়েলথ কেন গড়ে ওঠে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' নামক সংস্থার সাথে তোমার পঠিত কোন আঞ্চলিক সংস্থার মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিশ্বশান্তি রক্ষায় উদ্দীপকের 'খ' নামক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কার্যক্রম মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    SAARC এর পূর্ণরূপ South Asian Association for Regional Cooperation (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা)।

  2. খ)

    কমনওয়েলথ গড়ে ওঠে মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন ধরে রাখা ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য।

    স্বাধীনতার পর এসব দেশ স্বেচ্ছায় সংস্থাটির সদস্য হয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' নামক সংস্থার সাথে সার্ক (SAARC, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) এর মিল রয়েছে।

    ১. অবস্থান ও সচিবালয়: শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের রাজধানীতে সংস্থাটির সচিবালয় দেখেছে। সার্কের সচিবালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
    ২. আঞ্চলিক সংস্থা: সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক সংস্থা। ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এর যাত্রা শুরু হয়।
    ৩. উদ্দেশ্য: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এর লক্ষ্য।

  4. ঘ)

    'খ' নামক সংস্থাটি জাতিসংঘ, যার সদর দপ্তর আটলান্টিকের পশ্চিম তীরের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় এর কার্যক্রম মিশ্র হলেও মোটের ওপর গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. শান্তিরক্ষা: সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি তদারকি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এর প্রধান কাজ। উদ্দীপকে বাংলাদেশের অবদানকে প্রশংসনীয় বলা হয়েছে, কারণ বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সৈন্য পাঠিয়ে এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
    ২. বিরোধ মীমাংসা ও মানবিক সহায়তা: আলোচনা ও নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা এবং ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও-র মাধ্যমে শিশু ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করা।
    ৩. সীমাবদ্ধতা: স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা ও বৃহৎ শক্তির প্রভাবের কারণে কিছু সংকটে সংস্থাটি কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। ফিলিস্তিন সংকট এর একটি উদাহরণ।

    সুতরাং, কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা মূল্যবান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন