রসায়ন ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সাসপেনশন কী?

    (1)
  2. খ)

    পটাসিয়ামের ১৯-তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালের পরিবর্তে 4s- অরবিটালে যায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    ল্যাবরেটরীতে রাসায়নিক দ্রব্য A-এর নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    পরিবেশ সংরক্ষণে ল্যাবরেটরীতে রাসায়নিক দ্রব্য B-এর পরিমিত ব্যবহারের গুরুত্ব কী? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অসমসত্ব মিশ্রণে অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থের কণাগুলো (যাদের ব্যাস সাধারণত ১০০ ন্যানোমিটার বা ১০⁻⁵ সেন্টিমিটারের চেয়ে বেশি) তরল দ্রাবকে ভাসমান অবস্থায় ছড়িয়ে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ স্থির রেখে দিলে তা নিচে তলানি আকারে জমা হয়, তাকে সাসপেনশন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আউফবাউ নীতি অনুসারে ইলেকট্রন প্রথমে নিম্নশক্তি সম্পন্ন অরবিটালে এবং পরবর্তীতে উচ্চশক্তি সম্পন্ন অরবিটালে প্রবেশ করে। কোনো অরবিটালের শক্তি নির্ধারিত হয় প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) এবং সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যার (l) যোগফল অর্থাৎ (n + l) এর মান দ্বারা। যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম, তার শক্তি কম।

    3d অরবিটালের ক্ষেত্রে: n = 3, l = 2; সুতরাং (n + l) = 3 + 2 = 5
    4s অরবিটালের ক্ষেত্রে: n = 4, l = 0; সুতরাং (n + l) = 4 + 0 = 4

    যেহেতু 4s অরবিটালের (n + l) এর মান 3d এর চেয়ে কম, তাই 4s অরবিটালের শক্তি 3d অরবিটালের শক্তির তুলনায় কম। ফলে পটাশিয়ামের (K, Z = 19) ১৯-তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে না গিয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্নশক্তির 4s অরবিটালে প্রবেশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাসায়নিক দ্রব্য 'A' হলো সোডিয়াম (Na)। সোডিয়াম একটি অত্যন্ত সক্রিয় ক্ষার ধাতু, যার কারণে ল্যাবরেটরিতে একে বিশেষ সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতে হয়।

    ১. বাতাসের সংস্পর্শ রোধ: সোডিয়াম অত্যন্ত সক্রিয় হওয়ায় এটি বায়ুর অক্সিজেনের সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে সোডিয়াম অক্সাইড ও পারঅক্সাইড গঠন করে এবং বায়ুর আর্দ্রতা বা পানির সংস্পর্শে এলে তীব্র তাপোৎপাদী বিক্রিয়া ঘটিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপে হাইড্রোজেন গ্যাসে আগুন ধরে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে:
    2Na + 2H₂O → 2NaOH + H₂ + তাপ

    ২. কেরোসিন বা প্যারাফিন তেলে সংরক্ষণ: এই কারণে সোডিয়াম ধাতুকে কখনো খোলা অবস্থায় বা পানির সংস্পর্শে রাখা যায় না। একে সর্বদা নিষ্ক্রিয় তরল যেমন কেরোসিন বা তরল প্যারাফিনের নিচে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে এয়ার-টাইট (বায়ুরোধী) কাচের বোতলে সংরক্ষণ করা হয়।

    ৩. ব্যবহারকালীন সতর্কতা: ব্যবহারের সময় শুষ্ক চিমটার সাহায্যে তুলে ব্লটিং পেপার দিয়ে তেল মুছে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কেটে নিতে হয় এবং অবশিষ্ট অংশ অবিলম্বে কেরোসিনের নিচে ফিরিয়ে রাখতে হয়। এভাবে ল্যাবরেটরিতে সোডিয়াম নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাসায়নিক দ্রব্য 'B' হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)। পরিবেশ সংরক্ষণে ল্যাবরেটরিতে এর পরিমিত ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অম্লত্ব বৃদ্ধি ও জলজ পরিবেশের সুরক্ষা: সালফিউরিক অ্যাসিড একটি তীব্র ক্ষয়কারী ও বিষাক্ত খনিজ অ্যাসিড। অতিরিক্ত ব্যবহারের পর অপরিশোধিত অবস্থায় এটি ল্যাবরেটরির বেসিনে বা ড্রেনে ফেলা হলে তা ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ জলাশয়ে মিশে পানির pH মান বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে জলজ উদ্ভিদ ও মাছসহ সামগ্রিক জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়। পরিমিত ব্যবহার এই বর্জ্যের পরিমাণ নূন্যতম রাখে।

    ২. মাটির উর্বরতা রক্ষা: অ্যাসিডযুক্ত তরল বর্জ্য মাটিতে মিশলে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়, যা উপকারী অণুজীবদের মেরে ফেলে এবং মাটির উর্বরতা মারাত্মকভাবে নষ্ট করে। পরিমিত ব্যবহারে মাটির এসিডিক দূষণ রোধ হয়।

    ৩. বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ রোধ: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অতিরিক্ত H₂SO₄ ব্যবহার করলে অনেক সময় বিষাক্ত ও ঝাঁঝালো সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) গ্যাস উৎপন্ন হয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্বাসকষ্টজনিত রোগ সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে এসিড বৃষ্টির কারণ হয়। পরিমিত ব্যবহারে এ ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    ৪. টেকসই ও পরিবেশবান্ধব রসায়নচর্চা: ল্যাবরেটরিতে ম্যাক্রো পদ্ধতির পরিবর্তে সেমিমাইক্রো বা মাইক্রো অ্যানালাইসিস পদ্ধতি অনুসরণ করে রাসায়নিকের ব্যবহার শতগুণ কমিয়ে আনা যায়। এতে অপচয় কমে এবং পরিবেশ দূষণ বহুলাংশে রোধ হয়।

    অতএব, পরিবেশ দূষণ রোধ ও ভারসাম্য রক্ষায় ল্যাবরেটরিতে H₂SO₄-এর অপরিমিত ব্যবহার বন্ধ করে যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন