বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

8.

(ক) শীতের কোনো এক সকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।অথবা,(খ) “মাদকের অপর নাম মৃত্যু”- শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের উপযোগী একটি ভাষণ তৈরি কর।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

স্পষ্ট অনুমান: এটি উচ্চমাধ্যমিক (HSC) বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার নির্মিতি অংশের ১০ নম্বরের প্রশ্ন। | পরীক্ষার্থীকে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়, তবে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও পর্যালোচনার স্বার্থে দুটি বিকল্পেরই পূর্ণ উত্তর দেওয়া হয়েছে।

(ক) শীতের কোনো এক সকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা:

ভূমিকা:
ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে শীতকাল আসে ভিন্ন এক আমেজ নিয়ে। অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতের সকাল একেবারেই আলাদা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। গত পৌষ মাসে গ্রামের বাড়িতে কাটানো একটি কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালের স্মৃতি আজও আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দোলা দেয়।

প্রকৃতির রূপ:
সেদিন ভোরে যখন ঘুম ভাঙল, চারিদিক তখনো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। জানালার পর্দা সরাতেই চোখে পড়ল এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ। কিছু দূরে থাকা সুপারি আর নারকেল গাছগুলোকে মনে হচ্ছিল অস্পষ্ট ছায়ামূর্তি। টিনের চালে টুপটুপ করে শিশির পতনের শব্দ পরিবেশকে শান্ত ও নিস্তব্ধ করে তুলেছিল। আমি চাদর জড়িয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালাম। ঠাণ্ডা বাতাসের স্পর্শে শরীর কেঁপে উঠল। ঘাসের ডগায়, ধানের পাতার শীর্ষে মুক্তোর দানার মতো জমে থাকা শিশিরবিন্দু প্রকৃতির এক অনুপম রূপ ফুটিয়ে তুলছিল।

গ্রামীণ জীবনের চিত্র:
কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন ব্যস্ততা শুরু হলো। গাছিরা খেজুরের রস নামিয়ে আনছিল হাঁড়িভর্তি করে। কাঁচা রসের মিষ্টি গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। উঠোনে শুকনো খড়কুটো ও পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছিল শিশু ও বৃদ্ধরা। চুলার পাশে বসে ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠার সাথে নতুন গুড় খাওয়ার দৃশ্যটি ছিল পরম তৃপ্তির। এই গ্রামীণ সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা আধুনিক যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় খুঁজে পাওয়া বিরল।

সূর্যোদয় ও কুয়াশার বিদায়:
সকাল আটটার দিকে পূর্বাকাশ চিরে ধীরে ধীরে রক্তিম সূর্য উঁকি দিল। সোনালি রোদের স্পর্শে কুয়াশার চাদর মিলিয়ে যেতে লাগল। শিশিরবিন্দুগুলো রোদের আলোয় হীরকখণ্ডের মতো জ্বলজ্বল করে উঠল। মিষ্টি রোদের উষ্ণতায় যেন সমগ্র প্রকৃতি এক নতুন সতেজতা ফিরে পেল।

উপসংহার:
শীতের সেই সকালটি ছিল প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও গ্রামীণ সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। যান্ত্রিক নগরজীবনের শত ব্যস্ততার ভিড়েও সেই শান্ত, স্নিগ্ধ শীতের সকালের স্মৃতি আমার মনে অমলিন হয়ে থাকবে।


অথবা,

(খ) “মাদকের অপর নাম মৃত্যু”- শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের উপযোগী একটি ভাষণ:

শ্রদ্ধেয় সভাপতি, উপস্থিত প্রধান অতিথি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার সহপাঠী ভাই ও বোনেরা—সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আজকের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার বিষয়—‘মাদকের অপর নাম মৃত্যু’।

সুধীবৃন্দ,
মাদকাসক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এটি এমন এক নীরব ঘাতক, যা একজন মানুষকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিকভাবে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও গোটা রাষ্ট্র ভেতর থেকে নিঃশেষ হয়ে যায়। তাই যথার্থই বলা হয়—মাদকের অপর নাম মৃত্যু। এ মৃত্যু কেবল শারীরিক জীবনাবসান নয়; এটি মেধা, বিবেক, মানবিক মূল্যবোধ ও ভবিষ্যতের অনিবার্য অপমৃত্যু।

প্রিয় সুধী,
মাদকাসক্তির শুরুটা হয় সাধারণত কৌতূহল, অসৎ সঙ্গ কিংবা সাময়িক মানসিক হতাশা দূর করার মিথ্যা প্রয়াস থেকে। কিন্তু ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় মারাত্মক এক মরণনেশায়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, জড়িয়ে পড়ে চুরি, ছিনতাই, খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। যে তরুণ সমাজের হাতে দেশের নেতৃত্ব ও উন্নয়নের ভার থাকার কথা, সেই তরুণরা যখন মাদকে আসক্ত হয়, তখন একটি জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে বাধ্য।

উপস্থিত সুধীবৃন্দ,
এই মরণব্যাধি থেকে আমাদের রক্ষা পেতেই হবে। এর জন্য প্রয়োজন পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা। পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সন্তানের প্রতি নজর রাখতে হবে, তাদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং যুবসমাজকে খেলাধুলা ও গঠনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সাথে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদকের অবৈধ চোরাচালান ও বিপণন চক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োগ করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রিয় তরুণ প্রজন্ম,
তোমাদের মনে রাখতে হবে, জীবন অত্যন্ত সুন্দর ও সম্ভাবনাময়। সাময়িক মোহের বশে আত্মবিধ্বংসী মাদকের পথে পা বাড়িয়ে জীবনকে অকালে শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। আমাদের এক বাক্যে বলতে হবে—‘মাদককে না বলুন, জীবনকে ভালোবাসুন’।

আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ গ্রহণ করি—মাদকমুক্ত একটি সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন