বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
2.
মাদকাসক্তি ও আমাদের যুবসমাজ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদকাসক্তি ও আমাদের যুবসমাজ
ভূমিকা:
একটি দেশের ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধি নির্ভর করে সে দেশের তরুণ যুবসমাজের ওপর। কিন্তু বর্তমান সময়ে আধুনিক সভ্যতার চরম অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'মাদকাসক্তি'। এই বিধ্বংসী ব্যাধি আমাদের তরুণ ও যুবসমাজকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। মাদকাসক্তির করাল গ্রাসে বহু প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে, যা জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অন্তরায়।
মাদকাসক্তি কী:
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, যেসব দ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে এবং ধীরে ধীরে ওই দ্রব্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়, তাকে মাদক বলে। আর এমন দ্রব্যের প্রতি অপ্রতিরোধ্য তীব্র আসক্তিই হলো মাদকাসক্তি। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, প্যাথেড্রিন, বিভিন্ন ধরনের ঘুমের ওষুধ ও অ্যালকোহল।
যুবসমাজের মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ:
যুবসমাজের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পেছনে নানা সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক কারণ রয়েছে:
১. সঙ্গদোষ: অসৎ বন্ধুদের কৌতূহল ও প্ররোচনায় তরুণরা প্রায়শই প্রথম মাদক গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে আসক্ত হয়ে পড়ে।
২. হতাশা ও বেকারত্ব: উচ্চশিক্ষা শেষ করে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনের লক্ষ্যহীনতা থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক অবসাদ দূর করতে অনেকেই মাদকের আশ্রয় নেয়।
৩. পারিবারিক অশান্তি ও সচেতনতার অভাব: মা-বাবার মধ্যকার টানাপোড়েন, অপসংস্কৃতির কুপ্রভাব এবং সন্তানদের একাকীত্ব যুবসমাজকে বিপথগামী করে।
৪. মাদকের সহজলভ্যতা: দেশের সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে সহজেই মাদক ছড়িয়ে পড়া এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাও অন্যতম প্রধান কারণ।
যুবসমাজ ও সমাজে মাদকাসক্তির কুফল:
মাদকাসক্তির পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। মাদকের কারণে কিডনি বিকল, লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ক্যানসার ও মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। মাদকাসক্ত তরুণরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য তারা চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং এমনকি খুনের মতো চরম অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে। ফলে পারিবারিক জীবনে নেমে আসে চরম অশান্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
মাদকাসক্তির হাত থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি:
১. মাদকের সরবরাহ বন্ধ করা: দেশের সীমান্ত অঞ্চলে কঠোর নজরদারি এবং মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
২. পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা: সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের যত্নবান হতে হবে, সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন: আক্রান্ত তরুণদের ঘৃণা না করে নিরাময় কেন্দ্রে সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. আইন প্রয়োগ: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
উপসংহার:
যুবসমাজই দেশের চালিকাশক্তি। মাদকের হিংস্র ছোবল থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা আজ জাতীয় দাবি। মাদক নির্মূলে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর বিরুদ্ধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও