যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
রতনপুর গ্রামে হঠাৎ বজ্রপাতে গবাদিপশুসহ একজন মানুষ মারা গেল- গ্রামের বৃদ্ধা চানভানুর মতে, গ্রামের লোকজন গ্রামে কোনো ভালো কাজ করে না, সেই কারণে গ্রামে বাজ পড়েছে। অপরদিকে গ্রামের শিক্ষক সালাম সাহেবের মতে, আসলে গ্রামে বড় বড় গাছপালা কাটা হয়েছে, যাতে বৈরী আবহাওয়ায় বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছে।
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কাকে বলে?
- খ)(2)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বৃদ্ধা চাঁনভানুর বক্তব্যে কোন ধরনের ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বৃদ্ধা চাঁনভানু ও সালাম সাহেবের বক্তব্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দুর্বোধ্য, জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়কে প্রাকৃতিক বা কার্যকর নিয়মের সাহায্যে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাকে ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল হলেও জগতের সকল বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়; এটিই এর সীমাবদ্ধতা। মূলত মৌলিক গুণাবলী (যেমন—মধুর স্বাদ, ব্যথার অনুভূতি), মনের নিজস্ব চেতনা বা অনুভূতি, জড়পদার্থের মূল রূপ এবং প্রকৃতির পরম বা মৌলিক নিয়মাবলীর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বৃদ্ধা চাঁনভানুর বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা'র প্রতিফলন ঘটেছে।
সাধারণ মানুষ যখন কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার পেছনে বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা মনগড়া অন্ধবিশ্বাসকে কারণ হিসেবে তুলে ধরে, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলা হয়। এ ধরনের ব্যাখ্যার কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বজ্রপাতের ফলে মানুষ ও পশু মারা যাওয়ার পর বৃদ্ধা চাঁনভানু দাবি করেন, “গ্রামের লোকজন গ্রামে কোনো ভালো কাজ করে না, সেই কারণে গ্রামে বাজ পড়েছে।” তাঁর এই বক্তব্য যুক্তিহীন এবং কুসংস্কারমূলক অতিপ্রাকৃতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে এতে স্পষ্টতই লৌকিক ব্যাখ্যার প্রকাশ ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বৃদ্ধা চাঁনভানু ও সালাম সাহেবের বক্তব্যের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। চাঁনভানুর বক্তব্যটি লৌকিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত, আর সালাম সাহেবের বক্তব্যটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য: চাঁনভানুর ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ কুসংস্কার, অলৌকিক শক্তি ও অন্ধবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে, শিক্ষক সালাম সাহেবের ব্যাখ্যা প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও পরিবেশগত প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
২. কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতি: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বস্তুনিষ্ঠ কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা। সালাম সাহেব গাছপালা কাটার ফলে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনকে বজ্রপাতের অনুকূল কারণ হিসেবে যুক্তিসঙ্গতভাবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে চাঁনভানু 'ভালো কাজ না করার' মতো কাল্পনিক ও যাচাই-অযোগ্য বিষয়কে কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
৩. যাচাইযোগ্যতা: সালাম সাহেবের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ ও বিজ্ঞানের সাহায্যে পরীক্ষণ ও যাচাইযোগ্য। কিন্তু চাঁনভানুর বক্তব্য কোনোভাবেই প্রমাণ বা পরীক্ষণযোগ্য নয়।
৪. ব্যক্তিনিষ্ঠতা বনাম সার্বজনীনতা: চাঁনভানুর লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিনিষ্ঠ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন, যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু সালাম সাহেবের প্রকৃতি ও পরিবেশভিত্তিক ব্যাখ্যা সার্বজনীন ও বস্তুনিষ্ঠ।
অতএব, স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে চাঁনভানুর বক্তব্য কুসংস্কারনির্ভর লৌকিক ব্যাখ্যা এবং সালাম সাহেবের বক্তব্য যুক্তিযুক্ত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও