বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

বিজ্ঞান প্রশ্ন

A | B | C
পরিবেশের সবচেয়ে সহজলভ্য উপাদান, মানবদেহে 60%-75% স্ফুটনাংক 100°C। | ইঞ্জিনচালিত নৌযান, কলকারখানার বর্জ্য, নর্দমার বর্জ্য। | কচুরিপানা, মাছ, ব্যাঙ।

  1. ক)

    পরিস্রাবণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ঘোলা পানিতে মাছের বৃদ্ধি বিঘ্নিত হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'A' গ্রুপের উপাদানটি মানসম্মত হওয়া প্রয়োজন - ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'B' গ্রুপের উপাদানগুলোর অপরিকল্পিত ব্যবহার 'C' গ্রুপের জন্য হুমকিস্বরূপ-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার প্রক্রিয়াকে পরিস্রাবণ বলে।

  2. খ)

    ঘোলা পানিতে অদ্রবণীয় কণা ভেসে থাকে। এতে সূর্যের আলো পানির গভীরে ঢুকতে পারে না, ফলে জলজ উদ্ভিদ ও শ্যাওলা ঠিকমতো সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে না। এতে পানিতে অক্সিজেন ও মাছের খাদ্য কমে যায়, তাই মাছের বৃদ্ধি বিঘ্নিত হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'A' গ্রুপের উপাদানটি হলো পানি (মানবদেহে ৬০-৭৫%, স্ফুটনাঙ্ক ১০০°C)। এর মান ঠিক থাকা জরুরি।

    ১. স্বাস্থ্য: দূষিত পানির মাধ্যমে টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগ ছড়ায়। পানিতে আর্সেনিক, পারদ, সিসার মতো ক্ষতিকর ধাতু থাকলে মানুষের মারাত্মক রোগ হয়।
    ২. pH-এর মান: নদ-নদীর পানির pH ৬-৮ এর মধ্যে থাকলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষতি হয় না। pH খুব কমে বা বেড়ে গেলে মাছের ডিম ও পোনা বাঁচতে পারে না।
    ৩. জলজ জীবন ও কৃষি: পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ঠিক না থাকলে মাছ ও অন্যান্য প্রাণী মারা যায়। সেচ ও শিল্পের জন্যও মানসম্মত পানি দরকার।

    তাই 'A' গ্রুপের উপাদান পানির মান ঠিক রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের B গ্রুপে আছে ইঞ্জিনচালিত নৌযান, কলকারখানার বর্জ্য ও নর্দমার বর্জ্য, আর C গ্রুপে আছে কচুরিপানা, মাছ ও ব্যাঙ, অর্থাৎ জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী। B গ্রুপের উপাদানগুলোর অপরিকল্পিত ব্যবহার C গ্রুপের জন্য হুমকিস্বরূপ।

    ১. অক্সিজেন কমে যায়: নর্দমার আবর্জনা ও জৈব বর্জ্য পচার সময় পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যবহার করে ফেলে। অক্সিজেন শূন্যে নেমে এলে মাছসহ সব প্রাণী মারা যায়। এভাবে বুড়িগঙ্গা প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়েছে।
    ২. বিষাক্ত পদার্থ: কলকারখানার বর্জ্যে এসিড, ক্ষার, পারদ, সিসা, আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকে, যা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য মারাত্মক।
    ৩. ফসফেট ও নাইট্রোজেন: ডিটারজেন্টের বর্জ্যে ফসফেট বেড়ে গেলে শ্যাওলা বেশি জন্মায়। এগুলো মরে পচে অক্সিজেন কমায়। আমেরিকার ইরি হ্রদ এভাবে মৃত হ্রদে পরিণত হয়েছিল।
    ৪. ঘোলাটে ও দুর্গন্ধময় পানি: পানি ঘোলা হলে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়।

    সুতরাং, শিল্পকারখানা ও নর্দমার বর্জ্য পরিশোধন না করে ফেললে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ হুমকির মুখে পড়ে। তাই ETP-এর মতো পরিকল্পিত ব্যবস্থা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন