জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্লাসমিড কী?
- খ)(2)
রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে আণবিক কাঁচি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত এ তৈরির ধাপগুলো বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি প্রয়োজনীয় জৈববস্তু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাকটেরিয়ার কোষে ক্রোমোজোম বহির্ভূত স্বপ্রজননশীল, বৃত্তাকার এবং দ্বিসূত্রক DNA অণুকে প্লাসমিড বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেস্ট্রিকশন এনজাইম ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট ক্ষারীয় সিকোয়েন্স (প্যালিনড্রোমিক সিকোয়েন্স) শনাক্ত করে ডিএনএ সূত্রের নির্দিষ্ট স্থান কেটে আলাদা করতে পারে। যেহেতু কাঁচি দিয়ে কোনো বস্তু নির্দিষ্টভাবে কাটা যায়, তেমনি রেস্ট্রিকশন এনজাইমও ডিএনএ অণুর সুনির্দিষ্ট অংশ কর্তনে আণবিক পর্যায়ে কাঁচির মতো কাজ করে। তাই রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে 'আণবিক কাঁচি' বা 'বায়োলজিক্যাল নাইফ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'A' হলো রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিড বা রিকম্বিনেন্ট DNA। এটি তৈরির ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. কাঙ্ক্ষিত DNA নির্বাচন ও পৃথকীকরণ: নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ধারণকারী উৎস জীব থেকে কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ড বা জিন নির্বাচন ও পৃথক করা হয়।
২. উপযুক্ত বাহক বা ভেক্টর নির্বাচন: রিকম্বিনেন্ট তৈরির জন্য সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার প্লাসমিড DNA-কে বাহক হিসেবে নির্বাচন ও নিষ্কাশন করা হয়।
৩. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা DNA কর্তন: একটি নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কাঙ্ক্ষিত DNA এবং প্লাসমিড ভেক্টরের নির্দিষ্ট অংশ কাটা হয়, যাতে উভয় প্রান্তে পরিপূরক আঠালো প্রান্ত (sticky ends) তৈরি হয়।
৪. DNA লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে সংযোজন: কাটা প্লাসমিড এবং কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ডকে একত্রিত করে DNA লাইগেজ (ligase) এনজাইমের উপস্থিতিতে ফসফোডাইএস্টার বন্ধন গঠনের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে উদ্দীপকের 'A' অর্থাৎ রিকম্বিনেন্ট DNA অণু তৈরি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পদ্ধতিটি হলো 'রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি' বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন জৈববস্তু বাণিজ্যিকভাবে এবং বিপুল পরিমাণে উৎপাদনে এ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. ইনসুলিন উৎপাদন: ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় মানব ইনসুলিন পূর্বে পশুদের অগ্ন্যাশয় থেকে সংগৃহীত হতো, যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রতুল। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের ইনসুলিন তৈরির জিন E. coli ব্যাকটেরিয়ায় স্থানান্তর করে বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে খাঁটি ইনসুলিন (হিউমুলিন) উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
২. বৃদ্ধি হরমোন (হিউম্যান গ্রোথ হরমোন): পিটুইটারি গ্রন্থির অকার্যকারিতা ও বামনত্ব দূরীকরণে রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব বৃদ্ধি হরমোন তৈরি করা হচ্ছে।
৩. ইন্টারফেরন ও ভ্যাকসিন তৈরি: ক্যান্সার ও মারাত্মক ভাইরাল রোগ প্রতিরোধে ইন্টারফেরন এবং হেপাটাইটিস-বি সহ বিভিন্ন রোগের নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন উৎপাদনে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।
৪. এনজাইম ও অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন: খাদ্য, টেক্সটাইল ও চামড়া শিল্পের বিভিন্ন এনজাইম এবং উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক সংশ্লেষণে রিকম্বিনেন্ট অণুজীব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সুতরাং, চিকিৎসা ও শিল্প ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জটিল জৈববস্তু সহজলভ্য, নিরাপদ ও সুলভে উৎপাদনে উদ্দীপকের রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি অপরিসীম ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও